আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে স্মার্টফোন ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনা করা যায় না। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ব্যবহার আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে টয়লেটে গিয়েও স্মার্টফোনের ব্যবহার অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসকে স্বাভাবিক মনে হলেও এই অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাথরুম বেশিরভাগ সময়েই ভিজে স্যাতস্যাতে থাকে আর এর ফলে দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে ব্যাকটেরিয়ার। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।
ঠিকমতো না হাত ধোয়া এবং কমোডের পাশে ফোন রাখায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে – কোলাই, সিগেল্লা, সালমোনেল্লার মতো ব্যকটেরিয়া। ফোনের টাচস্ক্রিনে গ্যাসট্রো এবং স্ট্যাপের মত ক্ষতিকর ভাইরাস জন্মাতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬৬% মানুষ টয়লেটে বসে ফোন ব্যবহার করেন। কোলোনোস্কোপি পরীক্ষায় দেখা যায়, টয়লেটে ফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৫১% হেমোরয়েডস আক্রান্ত। যেখানে ফোন ব্যবহার না করা ব্যক্তিদের মধ্যে এ সংখ্যা মাত্র ৩৮%।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বয়স, লিঙ্গ, বিএমআই, ব্যায়াম, টয়লেটে চাপ দেওয়া এবং ফাইবার গ্রহণের মতো বিষয় বিবেচনা করলেও দেখা যায়, টয়লেটে ফোন ব্যবহারে হেমোরয়েডসের ঝুঁকি প্রায় ৪৬% পর্যন্ত বাড়ে।
আরও পড়ুন : ‘যাদের ঠকা কনফার্ম তারা সম্মিলিত বয়কট পর্ষদ ঘোষণা করেন’
অন্যদিকে, ফোন ব্যবহারকারীরা সাধারণ মানুষের তুলনায় টয়লেটে বেশি সময় কাটান। সংবাদপত্র পড়া (৫৪%) এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজ করা (৪৪%) এই সময়ের সাধারণ অভ্যাস। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে পেলভিক ফ্লোরে চাপ বেড়ে যায়, যা হেমোরয়েডস তৈরি করতে সহায়ক।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতন মনোভাব ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থতার মূল চাবিকাঠি। টয়লেটে বসে ফোন ব্যবহার শুধু সময় নষ্টই নয়। বরং অজান্তেই ডেকে আনছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।
ঢাকা ডেস্ক 















