প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার দুর্ঘটনা ঘটে শুধুমাত্র তন্দ্রাচ্ছন্ন চালনার কারণে। বাংলাদেশেও রাস্তায় ঘুমিয়ে পড়া বা তন্দ্রা আসা চালকদের কারণে অনেক প্রাণহানি ঘটে।
অনেকেই লম্বা ভ্রমণের সময় ক্লান্ত হয়ে চালকের পাশে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু জানেন কি, এভাবে ঘুমালে চালকের মনোযোগ বিঘ্নিত হতে পারে, যার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চালক যখন দেখেন যে পাশে বসা যাত্রী ঘুমিয়ে পড়েছেন, তখন তার মনে ক্লান্তি এবং একঘেয়েমি অনুভূত হতে পারে। এতে চালকের রিফ্লেক্স কমে যেতে পারে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়।
গাড়িতে ঘুমানোর সঠিক নিয়ম
গাড়ির পেছনের আসনে ঘুমানো যেতে পারে। এতে চালকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ কম হবে এবং চালকের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটবে না।
সামনের আসনে ঘুমানো উচিত নয়। এতে চালকের মনোযোগ বিভ্রান্ত হতে পারে।
যদি খুবই ক্লান্ত হন, গাড়ি নিরাপদ স্থানে থামিয়ে বিশ্রাম নিন। রাস্তায় গাড়ি চলমান অবস্থায় কখনোই ঘুমানোর চেষ্টা করবেন না।
পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যবস্থা করুন। ভ্রমণের আগের রাতে ভালো ঘুমানো জরুরি।
ক্যাফিন বা অন্যান্য উত্তেজক পদার্থ এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো সাময়িক জাগরণ দিলেও পরে অতিরিক্ত ক্লান্তি ডেকে আনতে পারে।
তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় চালনার ঝুঁকি
তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলির মধ্যে অন্যতম।
ঘুমের অভাব বা ঘুমের ব্যাধি (যেমন ইনসমনিয়া, স্লিপ অ্যাপনিয়া) থাকলে মাইক্রোস্লিপ-এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
মাইক্রোস্লিপ মানে হলো, কয়েক সেকেন্ডের জন্য আপনি সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে যান—এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
অনেক সময় ঘুমের সমস্যা থাকলে, ঘুমের ঘোরে গাড়ি চালানোর প্রবণতা দেখা যায়, যা মারাত্মক বিপজ্জনক।
আরও পড়ুন : সবজি ক্ষেতে গাঁজা চাষ করতেন দুলাল, জেনে যায় পুলিশ
ঝুঁকি এড়ানোরন কিছু টিপস
নিয়মিত ঘুমান—প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।
গাড়ি চালানোর আগে কফি বা এনার্জি ড্রিঙ্ক না খাওয়াই ভালো।
ভ্রমণের আগে স্বাস্থ্যকর খাবার খান—ক্যারবোহাইড্রেট ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলুন, এতে ঘুম বেশি পায়।
চালকের সাথে কথা বলুন, গান শুনুন বা হালকা গল্প করুন—এতে চালক জেগে থাকেন এবং মনোযোগী থাকেন।
দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানোর সময় প্রতি ২/৩ ঘণ্টা পর পর গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নিন।
রিপোর্টার 















