০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

রাতভর সংঘর্ষে উত্তপ্ত আশুলিয়া, ধ্বংসস্তূপে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • 137

আশুলিয়ায় অবস্থিত সিটি ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ চলেছে সোমবার (২৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ঘটনায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং সিটি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সাভারের খাগান এলাকায় ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ নামে এক বাসার সামনে ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর ওপর সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর মোটরসাইকেল থেকে থুথু পড়ে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের ওই বাসায় হামলা চালায়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিলের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পাল্টা অবস্থান নেন। পুলিশ ও দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন : ভারতে পালানোর সময় শামীম ওসমানের সহযোগী আজিজ গ্রেপ্তার

পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে বরং আরও উতপ্ত হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুর চলে টানা কয়েক ঘণ্টা। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ থেকে সাতটি গাড়ি, প্রশাসনিক ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। আহত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সোমবার সকালেও উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিচ্ছেন। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত, তবে প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।

ড্যাফোডিলের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির বলেন,“আমি ভোর ৫টার দিকে বিষয়টি জানতে পারি এবং তারপর থেকে কাজ করছি। তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না, তবে ঘটনার সূত্রপাত দুই শিক্ষার্থীর তর্ক থেকে।”

তিনি আরও জানান, কিছু শিক্ষার্থী আটকে রাখা হয়েছিল, তাদের উদ্ধারে প্রশাসন কাজ করছে এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. ইঞ্জিনিয়ার লুৎফর রহমান ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী শাহাদাত কবীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব) এক বিবৃতিতে বলেছে,“এই সংঘর্ষে যেমন সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ড্যাফোডিলের সুনামও। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীদের আইনের আওতায় আনতে হবে—কোনো পক্ষের অন্যায়ই সহ্যযোগ্য নয়।”

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

রাতভর সংঘর্ষে উত্তপ্ত আশুলিয়া, ধ্বংসস্তূপে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ আপডেট : ১১:২২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

আশুলিয়ায় অবস্থিত সিটি ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ চলেছে সোমবার (২৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ঘটনায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং সিটি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সাভারের খাগান এলাকায় ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ নামে এক বাসার সামনে ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর ওপর সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর মোটরসাইকেল থেকে থুথু পড়ে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের ওই বাসায় হামলা চালায়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিলের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পাল্টা অবস্থান নেন। পুলিশ ও দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন : ভারতে পালানোর সময় শামীম ওসমানের সহযোগী আজিজ গ্রেপ্তার

পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে বরং আরও উতপ্ত হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুর চলে টানা কয়েক ঘণ্টা। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ থেকে সাতটি গাড়ি, প্রশাসনিক ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। আহত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সোমবার সকালেও উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিচ্ছেন। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত, তবে প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।

ড্যাফোডিলের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির বলেন,“আমি ভোর ৫টার দিকে বিষয়টি জানতে পারি এবং তারপর থেকে কাজ করছি। তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না, তবে ঘটনার সূত্রপাত দুই শিক্ষার্থীর তর্ক থেকে।”

তিনি আরও জানান, কিছু শিক্ষার্থী আটকে রাখা হয়েছিল, তাদের উদ্ধারে প্রশাসন কাজ করছে এবং আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. ইঞ্জিনিয়ার লুৎফর রহমান ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী শাহাদাত কবীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পুসাব) এক বিবৃতিতে বলেছে,“এই সংঘর্ষে যেমন সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ড্যাফোডিলের সুনামও। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীদের আইনের আওতায় আনতে হবে—কোনো পক্ষের অন্যায়ই সহ্যযোগ্য নয়।”