০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কলাগাছ বদলে দিয়েছে এক গ্রামবাসীর জীবন!

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 162

কলাগাছ। প্রতীকী ছবি

অনেকের ধারণা কলা গাছের কলা ছাড়া আর কিছুই কাজে লাগে না। কিন্তু এমন ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে এক গ্রামের মানুষ। কলাগাছের আঁশ থেকে তৈরি করছেন টুপি, ব্যাগসহ ঘর সাজানোর নানা পণ্য। এমনকি কৃত্রিম চুলও তৈরি করছেন তারা!

বেনিনের ছোট্ট গ্রাম আকোদেহায়, এটি অবাক করার মতো কিছু নয়। গ্রামের মানুষরা কলাগাছকে শুধু ফলের জন্য ব্যবহার করছেন না, বরং এই গাছের আঁশ থেকেই তৈরি করছেন এমন সব পণ্য। আর এর আয়ে চলছে কারো কারো সংসার।

এই উদ্ভাবনী যাত্রার পেছনে আছেন কোসি ডিজিকো, যিনি একজন কৃষি উদ্যোক্তা। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ‘আফ্রিকা তেরোয়ার’ নামের সমবায়, যা কলাগাছের আঁশ দিয়ে টুপি, ব্যাগসহ নানা পণ্য তৈরি করছে। ডিজিকোর এই প্রয়াস শুধু গ্রামবাসীর জীবনে অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য আনছে না, বাঁচাচ্ছে পরিবেশও।

কিন্তু তারা কিভাবে এই পণ্যগুলো তৈরি করে? প্রথমে কলাগাছের খোসা থেকে সংগ্রহ করা হয় সূক্ষ্ম আঁশ। এরপর এই আঁশগুলোকে ভালোভাবে শুকানো হয়। তারপর এই আঁশগুলোকে সূক্ষ্ম সুতোর মতো কেটে নেয়া হয়, যা পরে বুনন করে তৈরি করা হয় টুপি, ব্যাগ এবং অন্যান্য পণ্য। প্রতিটি ধাপে গ্রামের কারিগররা নিখুঁত দক্ষতার পরিচয় দেন, যেন পণ্যগুলো সুন্দর এবং টেকসই হয়।

আরও পড়ুন : ঘুমালেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে মানুষখেকো নেকড়ে!

তবে পথটা সহজ ছিল না। বিদ্যুৎ, কাঁচামালের অপ্রতুলতা তাদের এই উদ্যোগে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার। ডিজিকো জানান, ‘আমরা বাইরে কাজ করি, বিদ্যুৎ ছাড়া উৎপাদন সম্ভব নয়। মানুষ আরও পণ্য চাইবে, কিন্তু আমরা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু পাই না।’

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘আফ্রিকা তেরোয়ার’ কলাগাছের আঁশ দিয়ে সরাসরি বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে। তাদের তৈরি টুপি, ব্যাগ স্থানীয় বাজারে বেশ জনপ্রিয়।
অলিভিয়ার আখোও নামে সমবায়ের এক সদস্য জানান, ‘এই টুপি খুবই ভালো মানের, দেখতে সুন্দর এবং ব্যবহারেও টেকসই।’

ডিজিকো জানান তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া, ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা, এবং সারা আফ্রিকা ও আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের পণ্য তুলে ধরা।
আকোদেহা গ্রামের মানুষ এভাবেই প্রমাণ করছে, প্রকৃতি থেকে পাওয়া সম্পদের সঠিক ব্যবহারে কীভাবে একদিকে পরিবেশ রক্ষা করা যায়, অন্যদিকে আর্থিক বিকাশ ঘটানো যায়।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

কলাগাছ বদলে দিয়েছে এক গ্রামবাসীর জীবন!

সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অনেকের ধারণা কলা গাছের কলা ছাড়া আর কিছুই কাজে লাগে না। কিন্তু এমন ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে এক গ্রামের মানুষ। কলাগাছের আঁশ থেকে তৈরি করছেন টুপি, ব্যাগসহ ঘর সাজানোর নানা পণ্য। এমনকি কৃত্রিম চুলও তৈরি করছেন তারা!

বেনিনের ছোট্ট গ্রাম আকোদেহায়, এটি অবাক করার মতো কিছু নয়। গ্রামের মানুষরা কলাগাছকে শুধু ফলের জন্য ব্যবহার করছেন না, বরং এই গাছের আঁশ থেকেই তৈরি করছেন এমন সব পণ্য। আর এর আয়ে চলছে কারো কারো সংসার।

এই উদ্ভাবনী যাত্রার পেছনে আছেন কোসি ডিজিকো, যিনি একজন কৃষি উদ্যোক্তা। তার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ‘আফ্রিকা তেরোয়ার’ নামের সমবায়, যা কলাগাছের আঁশ দিয়ে টুপি, ব্যাগসহ নানা পণ্য তৈরি করছে। ডিজিকোর এই প্রয়াস শুধু গ্রামবাসীর জীবনে অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য আনছে না, বাঁচাচ্ছে পরিবেশও।

কিন্তু তারা কিভাবে এই পণ্যগুলো তৈরি করে? প্রথমে কলাগাছের খোসা থেকে সংগ্রহ করা হয় সূক্ষ্ম আঁশ। এরপর এই আঁশগুলোকে ভালোভাবে শুকানো হয়। তারপর এই আঁশগুলোকে সূক্ষ্ম সুতোর মতো কেটে নেয়া হয়, যা পরে বুনন করে তৈরি করা হয় টুপি, ব্যাগ এবং অন্যান্য পণ্য। প্রতিটি ধাপে গ্রামের কারিগররা নিখুঁত দক্ষতার পরিচয় দেন, যেন পণ্যগুলো সুন্দর এবং টেকসই হয়।

আরও পড়ুন : ঘুমালেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে মানুষখেকো নেকড়ে!

তবে পথটা সহজ ছিল না। বিদ্যুৎ, কাঁচামালের অপ্রতুলতা তাদের এই উদ্যোগে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার। ডিজিকো জানান, ‘আমরা বাইরে কাজ করি, বিদ্যুৎ ছাড়া উৎপাদন সম্ভব নয়। মানুষ আরও পণ্য চাইবে, কিন্তু আমরা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু পাই না।’

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘আফ্রিকা তেরোয়ার’ কলাগাছের আঁশ দিয়ে সরাসরি বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে। তাদের তৈরি টুপি, ব্যাগ স্থানীয় বাজারে বেশ জনপ্রিয়।
অলিভিয়ার আখোও নামে সমবায়ের এক সদস্য জানান, ‘এই টুপি খুবই ভালো মানের, দেখতে সুন্দর এবং ব্যবহারেও টেকসই।’

ডিজিকো জানান তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া, ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা, এবং সারা আফ্রিকা ও আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের পণ্য তুলে ধরা।
আকোদেহা গ্রামের মানুষ এভাবেই প্রমাণ করছে, প্রকৃতি থেকে পাওয়া সম্পদের সঠিক ব্যবহারে কীভাবে একদিকে পরিবেশ রক্ষা করা যায়, অন্যদিকে আর্থিক বিকাশ ঘটানো যায়।