রাত হলেই ভারতের উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ জেলার মানুষজনের ঘুম যেন উড়ে যায়। কারণ, রাতের অন্ধকারে দেখা যাচ্ছে ভয়ঙ্কর মানুষখেকো নেকড়েকে। কেউ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে তাকে, কারও গলায় দেখা যাচ্ছে কামড়ের দাগ, আবার কাউকে খাওয়া হয়েছে আংশিক। এভাবেই আতঙ্কে কাটছে বাহরাইচের অন্তত ৩০টি গ্রামের রাত।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা ৩১০০ নেকড়ের মধ্যে কিছু নেকড়ে আচমকাই হয়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর মানুষখেকো। বিশেষত রাতের বেলায়, যখন পুরো অঞ্চল গভীর ঘুমে থাকে, তখনই এই হিংস্র প্রাণী ঢুকে পড়ে কোনো ঘরে, আর নাগালের মধ্যে থাকা কাউকে টেনে নিয়ে যায়। চেহারায় কুকুরের মতো হলেও হিংস্রতায় সে ছাড়িয়ে গিয়েছে বাঘকেও।
অতীতের সাথে মিল
১৯৮১-৮২ সালে বিহারে ১৬ জন শিশু নিহত হয়েছিল নেকড়ের আক্রমণে। ১৯৯৩-১৯৯৫ সালে আরও ৮০ জন শিশু আক্রমণের শিকার হয়। ১৯৯৬ সালে উত্তর প্রদেশে মাত্র ৮ মাসে ৫০টিরও বেশি গ্রামে ৭৬ জন শিশুর ওপর হামলে পড়ে নেকড়ে, মৃত্যু হয় ৩৮ জনের। সে সময় ১১টি নেকড়েকে মেরে ফেলা হয়েছিল। আর এবার, ২০২৪ সালের এই ঘটনার সাথে সেই সময়ের ঘটনার অদ্ভুত মিল পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন : শিশু শিকারি হেনরির ৬ স্ত্রী, ১০ হাজার সন্তানের বাবা!
চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত নেকড়ের আক্রমণে ৯টি শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩৪ জন।
বিশেষজ্ঞদের তদন্ত ও পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৯৬ সালের ঘটনার মতোই এবারও অধিকাংশ গ্রামে বাড়িতে তালা না থাকার কারণে শিশুদের ওপর নেকড়ের হামলা সহজ হয়েছে। এছাড়া, বন্যপ্রাণী অভাবের কারণে নেকড়েগুলো খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে।
প্রশাসন ইতোমধ্যে আতঙ্ক নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে—আতশবাজি পুড়িয়ে নেকড়েদের ভয় দেখানো, ফাঁদ স্থাপন, ড্রোন এবং ক্যামেরা ব্যবহার করে তাদের নজরে রাখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩টি নেকড়ে ধরা পড়েছে, যাদের স্থানান্তর করা হয়েছে চিড়িয়াখানায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, নেকড়ে চলাচলের অঞ্চলে শিশুদের ঘর থেকে বের হতে দেওয়া যাবে না। রাতের বেলায় যদি বের হওয়া খুবই জরুরি হয়, তাহলে প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে সাথে রাখতে হবে। এবং রাতের বেলায় গ্রামে পাহারা জোরদার করতে হবে।
ঢাকা ডেস্ক 









