আমাদের অনেকেরই অভ্যাস রাত গভীর হলে হঠাৎ করে চিপস, বিস্কুট, পিজ্জা কিংবা ভাজাপোড়া খাওয়ার। কাজের চাপ, পড়াশোনার ক্লান্তি কিংবা নিছক অভ্যাস থেকেই এমনটা ঘটে। কিন্তু চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন—ঘুমাতে যাওয়ার আগে দেরি করে খাওয়ার এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য একেবারেই ভালো নয়। এটি ডেকে আনতে পারে বেশ কিছু সমস্যা।
হজমের সমস্যা
রাতে দেরি করে ভারী খাবার খেলে তা হজম হতে সময় নেয়। ঘুমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই বিশ্রামে যায়, তখন হজম প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে পড়ে। ফলে বদহজম, বুকজ্বালা কিংবা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ওজন বৃদ্ধি
দেরি করে খাবার খাওয়ার সঙ্গে স্থূলতার যোগসূত্র বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। কারণ রাতের খাবার থেকে পাওয়া ক্যালোরি শরীরে জমা হয় বেশি। ঘুমের সময় শারীরিক কার্যকলাপ প্রায় বন্ধ থাকে, তাই অতিরিক্ত ক্যালোরি সহজেই চর্বি হিসেবে জমে যায়।
আরও পড়ুন : ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা
ঘুমের ব্যাঘাত
মসলাযুক্ত বা ভাজা খাবার রাতে খেলে ঘুম নষ্ট হতে পারে। অস্বস্তি, পেট ভারী লাগা বা অম্লতা মানুষকে অশান্ত করে তোলে। আবার মিষ্টি জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার তারতম্য ঘটিয়ে গভীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি
গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের বেলা নিয়মিত অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
বিকল্প কী হতে পারে?
যদি একেবারেই ক্ষুধা লাগে, তবে হালকা কিছু খাওয়া যেতে পারে। যেমন—এক গ্লাস দুধ, দই, এক টুকরো ফল বা বাদাম।
চেষ্টা করুন রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে শেষ করতে।
প্রতিদিন একই সময়ে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
সারকথা, দেরি করে রাতের বেলা ভারী ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস ছেড়ে দিতে হবে। এতে শুধু হজমতন্ত্রই নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
ঢাকা ডেস্ক 















