কক্সবাজারে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সেনাদের যৌথ মহড়ার কিছু ছবি ও ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ছবি ও ভিডিও দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, নিয়ম না মেনে মার্কিন সেনাবাহিনী বাংলাদেশে এসেছে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই, হোটেলে উঠেছে। এই ঘটনা নিয়ে শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতের মিডিয়াতেও গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।
ভারতের মিডিয়ায় বলা হচ্ছে , কক্সবাজারে মার্কিন সেনারা এসেছে বিশেষ বা গোপন উদ্দেশ্য নিয়ে। হিন্দুস্তান টাইমসে বলা হচ্ছে, চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মানবিক করিডোর তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে মহম্মদ ইউনুসে। মার্কিন সেনারা সে কারণে এসে থাকতে পারে।
অন্যদিকে আজতক বাংলা সেটাকে আরও বাড়িয়ে বলছে, মার্কিন সেনারা বাংলাদেশি সেনাদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বাংলাদেশ হয়তো ভারতের বিরুদ্ধেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও পড়ুন : টেকনাফের গহীন পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন ৬৬ নারী-শিশু, যা জানা যাচ্ছে
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান এ প্রসঙ্গে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘জাহেদস টেইক’-এ একটি ভিডিওতে কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, এটি একটি স্বাভাবিক যৌথ মহড়া হলেও, শুরুতে সরকারি পর্যায় থেকে কোনো ধরনের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি, যা গুজব ছড়িয়ে পড়ার একটি বড় কারণ।
জাহেদ জানান, ‘ভারতের সাংবাদিক পালকি শর্মা একটি ভিডিওতে বলেছেন, এ মহড়া গোপন কিছু নয়; বরং একটা ফ্রেমিং। তার মতে, ভারতে কিছু গোষ্ঠী ও মিডিয়া এ ঘটনাকে একটি ন্যারেটিভ বানিয়ে দিচ্ছে, যাতে রাজনৈতিক তত্ত্ব ও তত্ত্ব বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। পালকি যুক্তি দিচ্ছেন যে এটা শুধুই আবহাওয়া গরম করার রূপ, যাতে ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।’
আরও পড়ুন : বাংলাদেশে নতুন করে আর রোহিঙ্গা প্রবেশের সুযোগ নেই : শ্রম উপদেষ্টা
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মহড়া নতুন কিছু নয়। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনকি শেখ হাসিনার সরকার যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেও ছিল, তখনো এ ধরনের যৌথ মহড়া হয়েছে। কিন্তু এবার বিষয়টি অস্বাভাবিকভাবে চাপা রাখা হয়েছে।
ডা. জাহেদ বলেন, ভারতের এই ফ্রেমিংটি কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে তৈরি, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের মতো। আমরা বহুবার দেখেছি, ভারতের কিছু গোষ্ঠী বাংলাদেশে মৌলবাদী উত্থান, সেনা হস্তক্ষেপ বা বিদেশি চক্রান্তের গল্প বানিয়ে তা নিজেদের নিরাপত্তা হুমকির অংশ হিসেবে তুলে ধরে।
তার মতে, ভারতের অনেকেই মনে করেন, শেখ হাসিনার সরকারকে নির্বাচনের সময় সহায়তা করে তারা একটি প্রতিদান পাবে, যার মধ্যে একটি ছিল তিস্তা প্রকল্প চীনের হাতে না যাওয়া। সেই প্রেক্ষাপটে এই মহড়াকেও ভারত সংকেতপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
ঢাকা ডেস্ক 









