০২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আঙুল ফোটানো কী শরীরের জন্য ভালো না ক্ষতিকর? বিশেষজ্ঞরা কী বলছে?

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 164

ছবি : সংগৃহীত

আঙুল ফোটায় না এমন মানুষ খঁজে পাওয়া মুশকিল। কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু আরাম পেতে কেউ আঙুল ফোটান, আবার কেউ ফোটান কেবল অভ্যাসবশত।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়—আঙুল ফোটানো কি হাড় বা জয়েন্টের জন্য ক্ষতিকর? অনেকে মনে করেন, নিয়মিত আঙুল ফোটালে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হতে পারে কিংবা অল্প বয়সেই আর্থ্রাইটিস হবে।

কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

গবেষণা কী বলে

একজন চিকিৎসক টানা ৫০ বছর ধরে কেবল একটি হাতের আঙুল ফোটাতেন। দীর্ঘ সময় পর তিনি দেখেন, ফোটানো হাত ও না ফোটানো হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ থেকেই বোঝা যায়, আঙুল ফোটানো সবসময় ক্ষতিকর নয়।

আঙুল ফোটালে কেন শব্দ হয়?

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্টার্নসের মতে, আঙুল ফোটানোর সময় জয়েন্টের চারপাশের স্থান থেকে গ্যাস নির্গত হয়। এটি নাইট্রোজেন বুদবুদের মতো, আর সেই বুদবুদ সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শব্দ হয়। তবে শব্দটি বুদবুদ তৈরি হওয়ার নাকি নির্গত হওয়ার কারণে হয়—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০১৫ সালের এক গবেষণায় এমআরআইতে দেখা গেছে, আঙুল ফোটানোর সময় জয়েন্ট টান দিলে অস্থিসন্ধির তরলে একটি ছোট ফাঁপা জায়গা বা ‘ক্যাভিটি’ তৈরি হয়, যা শব্দের উৎস। আর ২০১৮ সালের আরেক গবেষণায় বলা হয়, আসলে শব্দটি হয় ওই ফাঁপা অংশ আংশিক ভেঙে পড়ার কারণে। এজন্যই একই আঙুল কিছুক্ষণ পর আবার ফোটানো যায়। কারণ, ওই ফাঁপা জায়গাটি পূর্ণ হতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে।

আরও পড়ুন : পরকীয়ায় কারা বেশি আসক্ত? গবেষণা যা বলছে

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

১৯৯৯ সালের এক গবেষণায় দাবি করা হয়, আঙুল ফোটানোয় কবজি দুর্বল হয় ও হাত ফুলে যায়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে সেই দাবি নাকচ হয়েছে। সঠিকভাবে আঙুল ফোটালে তা বড় হবে না এবং আর্থ্রাইটিসও হয় না—এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ ঝুঁকি একেবারে নেই, তা নয়। বরং এতে ঝুঁকি রয়েছে।

আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ

আঙুল ফোটানো আপনার জন্য ভালো না খারাপ, সেটি অবশ্যই জানা প্রয়োজন। কারও কাছে আঙুল ফোটানো আঙুল শক্ত হয়ে যাওয়া দূর করার একমাত্র উপায় বলে মনে করা হয়। আবার কারও কাছে এটি কেবল একটি অভ্যাস। কেউ কেউ শব্দের জন্য আবার ঘরে-বাইরে শুধুই মজার জন্য করে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে যদি কেউ নিয়মিতভাবে এটি করেন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।  যদি আঙুলে ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

আঙুল ফোটানো কী শরীরের জন্য ভালো না ক্ষতিকর? বিশেষজ্ঞরা কী বলছে?

সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আঙুল ফোটায় না এমন মানুষ খঁজে পাওয়া মুশকিল। কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু আরাম পেতে কেউ আঙুল ফোটান, আবার কেউ ফোটান কেবল অভ্যাসবশত।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়—আঙুল ফোটানো কি হাড় বা জয়েন্টের জন্য ক্ষতিকর? অনেকে মনে করেন, নিয়মিত আঙুল ফোটালে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হতে পারে কিংবা অল্প বয়সেই আর্থ্রাইটিস হবে।

কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

গবেষণা কী বলে

একজন চিকিৎসক টানা ৫০ বছর ধরে কেবল একটি হাতের আঙুল ফোটাতেন। দীর্ঘ সময় পর তিনি দেখেন, ফোটানো হাত ও না ফোটানো হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এ থেকেই বোঝা যায়, আঙুল ফোটানো সবসময় ক্ষতিকর নয়।

আঙুল ফোটালে কেন শব্দ হয়?

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্টার্নসের মতে, আঙুল ফোটানোর সময় জয়েন্টের চারপাশের স্থান থেকে গ্যাস নির্গত হয়। এটি নাইট্রোজেন বুদবুদের মতো, আর সেই বুদবুদ সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শব্দ হয়। তবে শব্দটি বুদবুদ তৈরি হওয়ার নাকি নির্গত হওয়ার কারণে হয়—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০১৫ সালের এক গবেষণায় এমআরআইতে দেখা গেছে, আঙুল ফোটানোর সময় জয়েন্ট টান দিলে অস্থিসন্ধির তরলে একটি ছোট ফাঁপা জায়গা বা ‘ক্যাভিটি’ তৈরি হয়, যা শব্দের উৎস। আর ২০১৮ সালের আরেক গবেষণায় বলা হয়, আসলে শব্দটি হয় ওই ফাঁপা অংশ আংশিক ভেঙে পড়ার কারণে। এজন্যই একই আঙুল কিছুক্ষণ পর আবার ফোটানো যায়। কারণ, ওই ফাঁপা জায়গাটি পূর্ণ হতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে।

আরও পড়ুন : পরকীয়ায় কারা বেশি আসক্ত? গবেষণা যা বলছে

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

১৯৯৯ সালের এক গবেষণায় দাবি করা হয়, আঙুল ফোটানোয় কবজি দুর্বল হয় ও হাত ফুলে যায়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে সেই দাবি নাকচ হয়েছে। সঠিকভাবে আঙুল ফোটালে তা বড় হবে না এবং আর্থ্রাইটিসও হয় না—এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ ঝুঁকি একেবারে নেই, তা নয়। বরং এতে ঝুঁকি রয়েছে।

আঙুল ফোটানো ভালো না খারাপ

আঙুল ফোটানো আপনার জন্য ভালো না খারাপ, সেটি অবশ্যই জানা প্রয়োজন। কারও কাছে আঙুল ফোটানো আঙুল শক্ত হয়ে যাওয়া দূর করার একমাত্র উপায় বলে মনে করা হয়। আবার কারও কাছে এটি কেবল একটি অভ্যাস। কেউ কেউ শব্দের জন্য আবার ঘরে-বাইরে শুধুই মজার জন্য করে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে যদি কেউ নিয়মিতভাবে এটি করেন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।  যদি আঙুলে ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো।