১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বৃষ্টির সময় দোয়া করলে কবুল হয়

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 238

ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনের সুরা মুমিনের ৬০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। মহান আল্লাহ বান্দাকে তার কাছে ফরিয়াদ করতে বললেও কিছু বিশেষ মুহূর্ত দিয়েছেন। যেসব মুহূর্তে আল্লাহ দোয়া কবুল করেন। এর অন্যতম হলো বৃষ্টির সময়ের দোয়া।

হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুই সময়ের দোয়া ফেরানো হয় না। এর একটি হলো আজানের সময়ের দোয়া আর অপর সময় হলো বৃষ্টি বর্ষণের সময়ের দোয়া।’ (আবু দাউদ)

হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তায়াল আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার আমরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম; তখন বৃষ্টি এল। রাসুল (সা.) তখন নিজের গায়ের পোশাকের কিছু অংশ সরিয়ে নিলেন, যাতে করে গায়ে বৃষ্টির পানির ছিটা লাগে। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কেন এমনটি করলেন? তিনি বললেন, ‘কারণ বৃষ্টি তার প্রতিপালকের কাছ থেকে মাত্রই এসেছে।’ (মুসলিম, হাদিস: ৮৯৮)

 

 

আরও পড়ুন : প্রেম করা নিয়ে ইসলাম কী বলে?

 

বৃষ্টির সময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  একটি দুআ শিখিয়েছেন।  বৃষ্টির সময় এ দুআ পড়লে মনের আশা পূরণ হয়। দোয়াটি হলো-

 

اللَّهُمَّ صَيِّباً نَافِعاً.

 

আরবি উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সয়্যিবান নাফিআ’

বাংলা অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি মুষলধারায় যে বৃষ্টি দিচ্ছেন, তা যেন আমাদের জন্য উপকারি হয়।’ (বুখারি, হাদিস: ১০৩২; নাসায়ি, হাদিস: ১৫২৩)

 

আরও পড়ুন : দোয়া ইউনুস, উপকারিতা ও ফজিলত

ঝোড়ো বাতাসের সময়ের দোআ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দমকা বাতাস হতে দেখলে চিন্তিত হয়ে পড়তেন। এছাগা বৃষ্টি হলে তিনি আবার খুশি হতেন। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার আশঙ্কা হয়, আমার উম্মতের ওপর কোনো গজব আসে কি না।’ বৃষ্টি দেখলেই তিনি বলতেন, ‘এটি আল্লাহর রহমত।’ (মুসলিম, হাদিস: ১,৯৬৯)

হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে বলা হয়েছে, রাসুল (সা.) আকাশে মেঘ দেখলে নফল ইবাদত ছেড়ে দিতেন। েএ সময় তিনি একটি দুআ করতেন। দুআটি হলো ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরি ওয়া খাইরি মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি’।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে বৃষ্টির উপকারী দিক কামনা করছি। আর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইছি।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫,১৯৯)

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বৃষ্টির সময় দোয়া করলে কবুল হয়

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পবিত্র কোরআনের সুরা মুমিনের ৬০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। মহান আল্লাহ বান্দাকে তার কাছে ফরিয়াদ করতে বললেও কিছু বিশেষ মুহূর্ত দিয়েছেন। যেসব মুহূর্তে আল্লাহ দোয়া কবুল করেন। এর অন্যতম হলো বৃষ্টির সময়ের দোয়া।

হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুই সময়ের দোয়া ফেরানো হয় না। এর একটি হলো আজানের সময়ের দোয়া আর অপর সময় হলো বৃষ্টি বর্ষণের সময়ের দোয়া।’ (আবু দাউদ)

হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তায়াল আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার আমরা রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম; তখন বৃষ্টি এল। রাসুল (সা.) তখন নিজের গায়ের পোশাকের কিছু অংশ সরিয়ে নিলেন, যাতে করে গায়ে বৃষ্টির পানির ছিটা লাগে। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কেন এমনটি করলেন? তিনি বললেন, ‘কারণ বৃষ্টি তার প্রতিপালকের কাছ থেকে মাত্রই এসেছে।’ (মুসলিম, হাদিস: ৮৯৮)

 

 

আরও পড়ুন : প্রেম করা নিয়ে ইসলাম কী বলে?

 

বৃষ্টির সময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  একটি দুআ শিখিয়েছেন।  বৃষ্টির সময় এ দুআ পড়লে মনের আশা পূরণ হয়। দোয়াটি হলো-

 

اللَّهُمَّ صَيِّباً نَافِعاً.

 

আরবি উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সয়্যিবান নাফিআ’

বাংলা অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি মুষলধারায় যে বৃষ্টি দিচ্ছেন, তা যেন আমাদের জন্য উপকারি হয়।’ (বুখারি, হাদিস: ১০৩২; নাসায়ি, হাদিস: ১৫২৩)

 

আরও পড়ুন : দোয়া ইউনুস, উপকারিতা ও ফজিলত

ঝোড়ো বাতাসের সময়ের দোআ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দমকা বাতাস হতে দেখলে চিন্তিত হয়ে পড়তেন। এছাগা বৃষ্টি হলে তিনি আবার খুশি হতেন। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার আশঙ্কা হয়, আমার উম্মতের ওপর কোনো গজব আসে কি না।’ বৃষ্টি দেখলেই তিনি বলতেন, ‘এটি আল্লাহর রহমত।’ (মুসলিম, হাদিস: ১,৯৬৯)

হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে বলা হয়েছে, রাসুল (সা.) আকাশে মেঘ দেখলে নফল ইবাদত ছেড়ে দিতেন। েএ সময় তিনি একটি দুআ করতেন। দুআটি হলো ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরি ওয়া খাইরি মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি’।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে বৃষ্টির উপকারী দিক কামনা করছি। আর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইছি।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫,১৯৯)