০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

স্ত্রীকে নোরা ফাতেহি বানানোর নেশায় স্বামীর নির্যাতন

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • 159

উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে এক নারীর জীবনে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি নেমে এসেছে বিয়ের পর। বলিউড আইটেম গার্ল নোরা ফাতেহির মতো দেখতে স্ত্রী চান—এমন অদ্ভুত দাবি পূরণ না করায় শারীরিক নির্যাতন, না খাইয়ে রাখা এবং গর্ভপাতের মতো ভয়াবহ ঘটনার শিকার হয়েছেন শানু ওরফে শানভি নামের এক তরুণী। অভিযুক্ত স্বামীর নাম শিবম উজ্জ্বল, পেশায় তিনি সরকারি স্কুলের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, চলতি বছরের ৬ মার্চ পারিবারিকভাবে শানু ও শিবমের বিয়ে হয়। বিয়েতে কনের পরিবারকে দিতে হয় প্রায় ৭৬ লাখ রুপির যৌতুক। এর মধ্যে ছিল ১৬ লাখ রুপির গয়না, ২৪ লাখ রুপির একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও গাড়ি এবং নগদ টাকাও। বিয়ের পর নতুন জীবনের শুরুটা সুখের হবে ভেবেছিলেন শানু। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হয় নির্যাতনের কালো অধ্যায়।

শানুর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী শিবম তাকে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জোরপূর্বক ব্যায়াম করাতেন। কোনো দিন ব্যায়াম না করলে দেওয়া হতো না খাবার। স্বামী নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও দেখতেন এবং শানুকে বলতেন— ‘তুমি আমার জীবন নষ্ট করেছো, আমি চাইলে নোরা ফাতেহির মতো কাউকে বিয়ে করতে পারতাম।’

আরও পড়ুন : আমিরের ‘অবৈধ সন্তান’ ও জেসিকাকে নিয়ে যা জানা গেল

শুধু স্বামীই নয়, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতেও নির্যাতনের শিকার হন শানু। তিনি জানান, শাশুড়ি তাকে ঘরের সব কাজ করাতেন, একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ দিতেন না, এমনকি শোবার ঘরের দরজা লাগানোর অনুমতিও ছিল না। শ্বশুর যে কোনো সময় হঠাৎ ঘরে ঢুকে পড়তেন। একবার মশারি না টাঙানোয় স্বামীর হাতে মারধরও খেতে হয়েছে তাকে।

এই নির্যাতনের মধ্যেই গর্ভবতী হন শানু। ভেবেছিলেন, হয়তো এবার তার প্রতি পরিবারের আচরণ বদলাবে। কিন্তু অভিযোগ, শাশুড়ি-ননদরা উল্টো গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করেন। দইয়ের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় তাকে, বলা হয়েছিল—ভ্রূণের জন্য উপকারী। কিন্তু পরে তীব্র শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে জুলাই মাসে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সেখানেই নিশ্চিত হওয়া যায় তার গর্ভপাত হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গর্ভপাতের পর শিবম তাকে জানায়— ‘যেদিন তোমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারব, সেদিনই সন্তানকেও মেনে নেব।’

এরপর ২৬ জুলাই শ্বশুরবাড়ি ফিরলেও তাকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি গয়না ও জামাকাপড়ও।

বর্তমানে তিনি বাবা-মায়ের বাড়িতেই থাকছেন। গত ১৪ আগস্ট শানু থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মানসিক, শারীরিক ও যৌতুক নির্যাতন, জোরপূর্বক গর্ভপাত এবং তালাকের হুমকির বিষয়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

স্ত্রীকে নোরা ফাতেহি বানানোর নেশায় স্বামীর নির্যাতন

সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে এক নারীর জীবনে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি নেমে এসেছে বিয়ের পর। বলিউড আইটেম গার্ল নোরা ফাতেহির মতো দেখতে স্ত্রী চান—এমন অদ্ভুত দাবি পূরণ না করায় শারীরিক নির্যাতন, না খাইয়ে রাখা এবং গর্ভপাতের মতো ভয়াবহ ঘটনার শিকার হয়েছেন শানু ওরফে শানভি নামের এক তরুণী। অভিযুক্ত স্বামীর নাম শিবম উজ্জ্বল, পেশায় তিনি সরকারি স্কুলের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, চলতি বছরের ৬ মার্চ পারিবারিকভাবে শানু ও শিবমের বিয়ে হয়। বিয়েতে কনের পরিবারকে দিতে হয় প্রায় ৭৬ লাখ রুপির যৌতুক। এর মধ্যে ছিল ১৬ লাখ রুপির গয়না, ২৪ লাখ রুপির একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও গাড়ি এবং নগদ টাকাও। বিয়ের পর নতুন জীবনের শুরুটা সুখের হবে ভেবেছিলেন শানু। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হয় নির্যাতনের কালো অধ্যায়।

শানুর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী শিবম তাকে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জোরপূর্বক ব্যায়াম করাতেন। কোনো দিন ব্যায়াম না করলে দেওয়া হতো না খাবার। স্বামী নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও দেখতেন এবং শানুকে বলতেন— ‘তুমি আমার জীবন নষ্ট করেছো, আমি চাইলে নোরা ফাতেহির মতো কাউকে বিয়ে করতে পারতাম।’

আরও পড়ুন : আমিরের ‘অবৈধ সন্তান’ ও জেসিকাকে নিয়ে যা জানা গেল

শুধু স্বামীই নয়, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতেও নির্যাতনের শিকার হন শানু। তিনি জানান, শাশুড়ি তাকে ঘরের সব কাজ করাতেন, একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ দিতেন না, এমনকি শোবার ঘরের দরজা লাগানোর অনুমতিও ছিল না। শ্বশুর যে কোনো সময় হঠাৎ ঘরে ঢুকে পড়তেন। একবার মশারি না টাঙানোয় স্বামীর হাতে মারধরও খেতে হয়েছে তাকে।

এই নির্যাতনের মধ্যেই গর্ভবতী হন শানু। ভেবেছিলেন, হয়তো এবার তার প্রতি পরিবারের আচরণ বদলাবে। কিন্তু অভিযোগ, শাশুড়ি-ননদরা উল্টো গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করেন। দইয়ের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয় তাকে, বলা হয়েছিল—ভ্রূণের জন্য উপকারী। কিন্তু পরে তীব্র শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে জুলাই মাসে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সেখানেই নিশ্চিত হওয়া যায় তার গর্ভপাত হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গর্ভপাতের পর শিবম তাকে জানায়— ‘যেদিন তোমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারব, সেদিনই সন্তানকেও মেনে নেব।’

এরপর ২৬ জুলাই শ্বশুরবাড়ি ফিরলেও তাকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি গয়না ও জামাকাপড়ও।

বর্তমানে তিনি বাবা-মায়ের বাড়িতেই থাকছেন। গত ১৪ আগস্ট শানু থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মানসিক, শারীরিক ও যৌতুক নির্যাতন, জোরপূর্বক গর্ভপাত এবং তালাকের হুমকির বিষয়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।