গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শ্বশুরবাড়ির ভিটাসহ জমি বিক্রি করে দিয়েছেন জামাই নাজমুল মিয়া। শ্বশুর-শাশুড়ি ও ছোট শ্যালিকার সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের অংশীদারিত্বে কেনা ভিটা নিজের নামে দলিল করে পরবর্তীতে তা বিক্রি করেন তিনি। এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগ এনে শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উত্তর বামনজল দোলাপাড়ার জাফর (৬৫) পেশায় দিনমজুর। চার মেয়ের এই বাবা ছোট মেয়ের বিয়ের সময় টাকা জোগাড় করতে বাড়ির ভিটার ৫ শতক জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন। কিন্তু যাতায়াতের সমস্যা থাকায় জমির ক্রেতা পরে তা ফেরত বিক্রি করতে চান। জাফরও জমি হারাতে রাজি হননি।
কিন্তু সাড়ে ৪ লাখ টাকা একা জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তখন বড় জামাই নাজমুল ও মেয়ে এসমোতারাকে নিয়ে তিনজন মিলে অর্থ সংগ্রহ করেন। জাফর দেন ১ লাখ, এসমোতারা দেন ১ লাখ ৩০ হাজার এবং বাকিটা দেন নাজমুল। চুক্তি অনুযায়ী জমির দলিলে তিনজনের নাম থাকার কথা থাকলেও নাজমুল কৌশলে একাই নিজের নামে দলিল করে নেন।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে আদালতের রায় শুনে বিচারককে জুতা নিক্ষেপ
পরিবার জানায়, বিষয়টি জানার পরও তারা আপস করে মেনে নেন। এমনকি গত মার্চে স্থানীয় সালিশে শ্বশুর-জামাইয়ের বিরোধ মিটেও যায়। কিন্তু সম্প্রতি নাজমুল কোনো পূর্বাভাস না দিয়েই জমিটি অন্যত্র বিক্রি করে দেন। এতে শ্বশুর-শাশুড়ি ও ছোট শ্যালিকা এখন বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন।
ভুক্তভোগী জাফর বলেন, ‘আমার কোনো ছেলে নেই, ভেবেছিলাম জামাই ছেলের মতো পাশে থাকবে। কিন্তু সে প্রতারণা করে নিজের নামে দলিল করে ভিটাবাড়ি বিক্রি করে দিল। এখন আমরা কোথায় যাব?’
আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে টাকা দিয়ে ভিটা ফিরিয়ে আনলেও সে আমাদের না জানিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই।’
অভিযোগ অস্বীকার করে নাজমুল মিয়া বলেন, ‘আমি শ্বশুর-শাশুড়িকে সাড়ে পাঁচ বছর দেখাশোনা করেছি। আমারও ছেলে-মেয়ে আছে, ভবিষ্যৎ আছে। তাই ওই জমি বিক্রি করে নিজ এলাকায় জমি কিনেছি।’
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল হাকিম আজাদ জানান, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে প্রতারণার প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঢাকা ডেস্ক 









