০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

গাজায় অনাহার-অপুষ্টিতে আরও ১১ জনের মৃত্যু

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • 89

অপুষ্টিতে গাজাতে মৃত্যু বাড়ছেই। ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অনাহার ও অপুষ্টির কারণে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ নিয়ে চলমান সংকটে এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১২ জনে। নিহতদের মধ্যে ৯৮ জনই শিশু।

শনিবার (৯ আগস্ট) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ৪৯১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ২১ জন ফিলিস্তিনি।

এরই মধ্যে ইসরায়েল গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে শহরটি খালি করতে হবে। প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে দক্ষিণ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার এ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলসহ ইসরায়েলের ভেতরেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এতে গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হবে এবং বন্দিদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন : গাজায় ত্রাণের ট্রাক উল্টে নিহত অন্তত ২৫

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সমালোচনা অগ্রাহ্য করে জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক নরম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, গাজা সম্পূর্ণ দখল করা হবে কি না, তা ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, গাজায় ইতোমধ্যেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যুদ্ধের আগে গাজা সিটিতে প্রায় ৬ লাখ মানুষের বসবাস ছিল, তবে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে অনেকেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবু বা ধ্বংসস্তূপে পরিণত ভবনে দিন কাটাচ্ছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ দিক থেকে খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে অন্তত ১,৩৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫৯ জন নিহত হয়েছেন সহায়তা কেন্দ্রের কাছে এবং ৫১৪ জন খাদ্যবাহী বহরের পথে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের অধিকাংশকে ইসরায়েলি সেনারা গুলি করেছে, যদিও এ অভিযোগ ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন অস্বীকার করেছে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

গাজায় অনাহার-অপুষ্টিতে আরও ১১ জনের মৃত্যু

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অনাহার ও অপুষ্টির কারণে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ নিয়ে চলমান সংকটে এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১২ জনে। নিহতদের মধ্যে ৯৮ জনই শিশু।

শনিবার (৯ আগস্ট) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ৪৯১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ২১ জন ফিলিস্তিনি।

এরই মধ্যে ইসরায়েল গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে শহরটি খালি করতে হবে। প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে দক্ষিণ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার এ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলসহ ইসরায়েলের ভেতরেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এতে গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হবে এবং বন্দিদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন : গাজায় ত্রাণের ট্রাক উল্টে নিহত অন্তত ২৫

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সমালোচনা অগ্রাহ্য করে জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক নরম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, গাজা সম্পূর্ণ দখল করা হবে কি না, তা ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, গাজায় ইতোমধ্যেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যুদ্ধের আগে গাজা সিটিতে প্রায় ৬ লাখ মানুষের বসবাস ছিল, তবে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে অনেকেই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবু বা ধ্বংসস্তূপে পরিণত ভবনে দিন কাটাচ্ছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ দিক থেকে খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে অন্তত ১,৩৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫৯ জন নিহত হয়েছেন সহায়তা কেন্দ্রের কাছে এবং ৫১৪ জন খাদ্যবাহী বহরের পথে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহতদের অধিকাংশকে ইসরায়েলি সেনারা গুলি করেছে, যদিও এ অভিযোগ ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন অস্বীকার করেছে।