পৃথিবীতে এমন অনেক স্থান আছে, যেগুলো রহস্যময়, সৌন্দর্যমণ্ডিত কিংবা ইতিহাসে মোড়ানো। তবে কিছু জায়গা আছে যেখানে ভুল করেও মানুষের পা রাখা উচিত নয়। এমনই এক ভয়ংকর জায়গা ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের নর্থম্বারল্যান্ড কাউন্টিতে অবস্থিত— ‘দ্য পয়জন গার্ডেন’।
এই বাগানটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত গাছের সংগ্রহশালা হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রজাতির বিষাক্ত উদ্ভিদ, যেগুলোর বেশিরভাগই মানুষের জন্য প্রাণঘাতী।
বাগানের প্রতিটি গাছ দেখতে যতটা মনোহর, বাস্তবে ততটাই বিপজ্জনক। কিছু গাছ আছে যেগুলোর কেবল গন্ধ শ্বাসে নিলেই শরীরে বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়। আবার কিছু গাছ স্পর্শ করলেই হতে পারে মারাত্মক চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট, এমনকি মৃত্যু।
এই কারণে বাগানের প্রবেশপথে রয়েছে মাথার খুলি ও হাড়ের চিহ্নযুক্ত কালো লোহার ফটক, যার চারপাশে ২৪ ঘণ্টা কড়া নিরাপত্তা। শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত গাইডের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়েই বাগানে প্রবেশের অনুমতি মেলে।
২০০৫ সালে ডাচেস অফ নর্থম্বারল্যান্ড, জেইন পার্সি, এই বাগানটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার লক্ষ্য ছিল বিষাক্ত উদ্ভিদের চিকিৎসা ও অপরাধমূলক ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি ও লোককথার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা। এটি আজ বিশ্বজুড়ে অন্যতম আলোচিত ও গবেষণাভিত্তিক উদ্ভিদ সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে।
বাগানে আছে এমন কিছু উদ্ভিদ যা এতটাই বিষাক্ত যে হ্যাজমাট স্যুট পরে ছাড়া কর্মীদেরও প্রবেশ নিষেধ। বাগানের প্রধান মালি ট্রেভর জোনস জানিয়েছেন, এখানকার লরেল উদ্ভিদ সায়ানাইড তৈরি করে, দৈত্য হগউইড ত্বককে পুড়িয়ে দিতে পারে—যার ক্ষত সাত বছর পর্যন্ত রয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন : দুপুরের খাবার খাওয়ার আদর্শ সময় কখন?
এছাড়াও রয়েছে:
- নাইটশেড (অ্যাট্রোপা বেলাডোনা) – প্রাচীনকালে বিষ প্রয়োগে ব্যবহৃত হতো।
- হেমলক (কনিয়াম ম্যাকুল্যাটাম) – সক্রেটিসকে মৃত্যুদণ্ডে ব্যবহৃত বিষ।
- ফক্সগ্লোভ (ডিজিটালিস) – হৃদযন্ত্রে প্রভাব ফেলে।
- রিসিনাস কমিউনিস (ক্যাস্টর বিন) – রিসিন নামক প্রাণঘাতী বিষ উৎপন্ন করে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত উদ্ভিদ হিসেবে গিনেস রেকর্ডে স্থান পেয়েছে।
- ল্যাবার্নাম – যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় সর্বাধিক বিষাক্ত উদ্ভিদ। এর শুকনো ডালও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
কেন এই বাগানে গাইড ছাড়া যাওয়া নিষিদ্ধ?
এই উদ্ভিদগুলোর অনেকটাই এত বিপজ্জনক যে, কেবল সংস্পর্শেই শরীরে তীব্র জ্বর, অজ্ঞানতা এমনকি মৃত্যু হতে পারে। বাগানে কাজ করা প্রত্যেক কর্মীকে বিশেষ নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরে উদ্ভিদ পরিচর্যা করতে হয়।
ঢাকা ডেস্ক 















