২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত আলোচিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা সাতটি মামলায় ৪৫ জন রাজনীতিবিদ, আমলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (২০ জুলাই) সকালে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। এদিন কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ৩৯ জন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং সেখানেই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, দীপু মনি, আমির হোসেন আমু, সালমান এফ রহমান, জুনাইদ আহমেদ পলকসহ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী ১৬ জন রাজনীতিক। এছাড়া রয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক ২৩ কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন : চলে গেলেন বরেণ্য ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান
এই মামলায় অভিযুক্ত আরও ব্যক্তিরা হলেন: সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামরুল ইসলাম, উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম।
এর আগে ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, এই মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে দুই মাস সময় বেঁধে দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি তদন্তের অগ্রগতি বিবেচনায় আরও সময় চেয়ে আবেদন করে তদন্ত সংস্থা।
জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানের পেছনে ছিল তৎকালীন সরকার ও প্রশাসনের সরাসরি নির্দেশ ও পরিকল্পনা।
এই ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলা গ্রহণ করে এবং এখন চলছে বিচার প্রক্রিয়া। শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর গণহত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
ঢাকা ডেস্ক 









