গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হয়েছে নতুন মামলা। এতে নাম উল্লেখ করে ৭৫ জন এবং আরও অজ্ঞাতপরিচয় ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও শহরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
গত বুধবার (১৬ জুলাই) এনসিপির একটি জনসভা শেষে ফেরার পথে দলটির গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। এনসিপি দাবি করেছে, হামলাটি চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সহিংসতায় রূপ নেয়।
আরও পড়ুন : গোপালগঞ্জে সহিংসতায় আরও একজনের মৃত্যু
ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা এই সহিংসতায় পুরো গোপালগঞ্জ শহর একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান (এপিসি) ব্যবহার করে এলাকা ছাড়তে হয়।
সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন— রমজান কাজী (১৯), সোহেল রানা (৩৫), দীপ্ত সাহা (৩০), ইমন তালুকদার (২৪), রমজান মুন্সী (৩২)।
ঘটনার পর বিকেল পাঁচটার দিকে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন। সন্ধ্যা নাগাদ তারা খুলনায় পৌঁছান এবং সার্কিট হাউস ও একটি হোটেলে অবস্থান নেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার পর রাতেই থানায় মামলা দায়ের করেন পুলিশ পরিদর্শক আহম্মেদ আলী। মামলায় পুলিশ জানায়, উদ্দেশ্যমূলকভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন গোপালগঞ্জে জরুরি ভিত্তিতে কারফিউ জারি করে। প্রশাসন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা ডেস্ক 









