১২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

গোপালগঞ্জে সহিংসতা ও কারফিউ নিয়ে পুলিশের বিবৃতি

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • 61

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বানে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংসতায় মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৬ জুলাই দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরে সংঘটিত এই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপি ওইদিন গোপালগঞ্জ পৌর উন্মুক্ত মঞ্চে সমাবেশের ঘোষণা দেয়। সমাবেশে অংশ নিতে বরিশাল থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গোপালগঞ্জে রওনা দেন।

তবে সমাবেশ শুরুর আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উলপুরে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়িতে আগুন দেয় এক নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। এতে একজন পুলিশ পরিদর্শকসহ তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

আরও পড়ুন : গোপালগঞ্জের সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

পরবর্তীতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতাকর্মীরা সড়কে গাছ ফেলে, আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে রাস্তা অবরোধ করে। কোটালীপাড়ার অবদার হাট, কাঠি বাজারসহ একাধিক স্থানে সংঘবদ্ধভাবে এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে সমাবেশস্থলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মঞ্চে আক্রমণ চালায়। পরে এনসিপি নেতারা মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়।

বিকেল ৩টার দিকে এনসিপির গাড়িবহর মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে গোপালগঞ্জ পৌরসভার লঞ্চ ঘাট এলাকায় তাদের গন্তব্যে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী বাধা দানের কারণ ব্যাখ্যা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায়।

এই ঘটনায় চারজন নিহত হন এবং প্রায় ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হন, যাদের মধ্যে ৪৫ জন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক রয়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ এনসিপি নেতাদের জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেয় এবং পরে তাদের খুলনায় পৌঁছে দেয়।

রাত ৭টা ৩০ মিনিটে বিক্ষুব্ধ জনতা নিহতদের মরদেহ জেলা হাসপাতাল থেকে জোর করে নিয়ে যায়, ফলে পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

এখন পর্যন্ত নাশকতার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং ১৫০৭ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষার্থে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জে এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নজরদারিতে আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

গোপালগঞ্জে সহিংসতা ও কারফিউ নিয়ে পুলিশের বিবৃতি

সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বানে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংসতায় মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৬ জুলাই দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরে সংঘটিত এই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপি ওইদিন গোপালগঞ্জ পৌর উন্মুক্ত মঞ্চে সমাবেশের ঘোষণা দেয়। সমাবেশে অংশ নিতে বরিশাল থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গোপালগঞ্জে রওনা দেন।

তবে সমাবেশ শুরুর আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উলপুরে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়িতে আগুন দেয় এক নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। এতে একজন পুলিশ পরিদর্শকসহ তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

আরও পড়ুন : গোপালগঞ্জের সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

পরবর্তীতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতাকর্মীরা সড়কে গাছ ফেলে, আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে রাস্তা অবরোধ করে। কোটালীপাড়ার অবদার হাট, কাঠি বাজারসহ একাধিক স্থানে সংঘবদ্ধভাবে এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে সমাবেশস্থলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মঞ্চে আক্রমণ চালায়। পরে এনসিপি নেতারা মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়।

বিকেল ৩টার দিকে এনসিপির গাড়িবহর মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে গোপালগঞ্জ পৌরসভার লঞ্চ ঘাট এলাকায় তাদের গন্তব্যে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী বাধা দানের কারণ ব্যাখ্যা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায়।

এই ঘটনায় চারজন নিহত হন এবং প্রায় ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হন, যাদের মধ্যে ৪৫ জন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক রয়েছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ এনসিপি নেতাদের জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেয় এবং পরে তাদের খুলনায় পৌঁছে দেয়।

রাত ৭টা ৩০ মিনিটে বিক্ষুব্ধ জনতা নিহতদের মরদেহ জেলা হাসপাতাল থেকে জোর করে নিয়ে যায়, ফলে পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

এখন পর্যন্ত নাশকতার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং ১৫০৭ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষার্থে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জে এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নজরদারিতে আছে।