রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মো. আজমল হোসেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে শিক্ষক নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা এই মেধাবী প্রার্থী অবশেষে হতাশ হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কারণ—আসন্ন শিক্ষক নিয়োগের ভাইভা বোর্ডে তার নামই নেই।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজমল বলেন, “আমি বিভাগের সর্বোচ্চ ফলাফলধারী। অনার্সে এবং মাস্টার্সে আমি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিলাম। যোগ্যতা থাকার পরও আমাকে ভাইভা কার্ড দেওয়া হয়নি—এটা কোনোভাবেই ন্যায্যতা হতে পারে না।”
আজমল হোসেন ২০০১-০২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০০৫ সালে অনার্স এবং ২০০৬ সালে মাস্টার্স শেষ করেন। তার বাড়ি মাগুরা জেলায়।
আরও পড়ুন : মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে গোপালগঞ্জের শিক্ষক বরখাস্ত
তিনি জানান, ২০১৯ সালে শিক্ষক নিয়োগে এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলকে শর্ত হিসেবে যুক্ত করায় তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশে নতুন করে আবেদন করতে পারলেও সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
আজমলের ভাষ্য, “নতুন প্রশাসন সার্কুলার জারি করে জানায়, পূর্বে যারা আবেদন করেছেন, তাদের আবার আবেদন করতে হবে না। আমি যেহেতু প্রথম স্থান অধিকারী, তাই আমি প্রাক-নির্বাচিত প্রার্থীদের একজন হওয়ার কথা। তারপরও আমাকে ভাইভায় ডাকা হয়নি। এটা আমার সঙ্গে চরম বৈষম্য।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউল্লাহ বলেন, “আগের নিয়োগে আজমল হোসেন শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তাই তার আবেদন বাতিল হয়েছিল। পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যেহেতু তিনি নতুন আবেদন করেননি, তাই তাকে ভাইভায় ডাকা হয়নি।”
তবে আজমলের দাবি, বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা ছিল পূর্বের আবেদনকারীদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। তাহলে কেন তার আগের আবেদন বাতিল বলে ধরা হলো—এই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ঢাকা ডেস্ক 









