০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আপনার হার্ট ভালো রাখবে যে ৫ অভ্যাস

  • রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • 142

আপনার হার্ট সুস্থ রাখতে কি শুধু কঠোর ডায়েট আর ঘাম ঝরানো ব্যায়ামই দরকার? মার্কিন চিকিৎসক ড. নিকোলাস এনওয়াবুয়েজি এমনটি মনে করেন না। বরং তিনি বলছেন, প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট সময় দিলেই হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো বিশ্বের লাখো মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে বলেও মন্তব্য তার।

‘দ্য ফিটেস্ট ডক’ নামে অনলাইনে পরিচিত এই চিকিৎসক সম্প্রতি এমন ৫টি দৈনন্দিন অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন, যেগুলো হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হার্ট ভালো রাখবে যে ৫ অভ্যাস

১. প্রতিটি খাবারের পর হালকা হাঁটা

খাবার খাওয়ার পর একেবারে বসে পড়া শরীরের জন্য ভালো না। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। ড. এনওয়াবুয়েজি পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রতিটি খাবারের পরে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট হেঁটে নেয়া উচিত।

এতে হজম ভালো হয়, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দেহের প্রদাহ কমে। এমনকি মাত্র ২-৫ মিনিটের হালকা হাঁটার মাধ্যমেও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব যা হার্ট সুস্থ রাখার অন্যতম পূর্বশর্ত।

২. সকালে সূর্যের আলো গায়ে মাখানো

ভিটামিন ডি ছাড়াও সকালবেলার সূর্যের আলো শরীরের সার্বিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন : কালোজিরার তেল নিয়মিত খেলে কী ঘটে আপনার শরীরে

ড. এনওয়াবুয়েজির মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর এক ঘণ্টার মধ্যে প্রাকৃতিক আলোতে কিছুক্ষণ সময় কাটানো উচিত। কারণ, সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক না থাকলে ঘুমের সমস্যা, স্ট্রেস ও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে যেগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৩. প্লাস্টিক নয়, খাবার রাখুন কাঁচ বা স্টিলের পাত্রে

প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার রাখা কিংবা গরম করা সাধারণ হলেও তা ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক প্লাস্টিকে থাকা রাসায়নিক পদার্থ যেমন বিসফেনল-এ (বিপিএ) ও ফথালেটস শরীরে হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে এবং হৃদরোগ ও বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষত প্লাস্টিক গরম করলে এই ক্ষতিকর রাসায়নিকগুলো খাবারে মিশে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্লাস বা স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করুন।

৪. মোটিভেশনের পেছনে না ছুটে ছোট অভ্যাস গড়ে তুলুন

ড. এনওয়াবুয়েজি মনে করেন, হার্টের অসুস্থতা হঠাৎ করে হয় না। এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়। তাই ছোট ছোট, ধারাবাহিক অভ্যাস যেমন- ফোনে কথা বলার সময় দাঁড়িয়ে থাকা, সিঁড়ি ব্যবহার করা, সাপ্তাহিকভাবে খাবার প্রস্তুত করা এসবই দীর্ঘমেয়াদে হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী হতে পারে। বড় সংকল্প নয়, বরং ক্ষুদ্র অভ্যাসই রক্ষা করতে পারে হার্টকে।

৫. কম বসুন, বেশি নড়াচড়া করুন

অনেকেই ভাবেন, দিনের শেষে ব্যায়াম করলেই হলো। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকা হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ যদি আপনি নিয়মিত ব্যায়ামও করেন। প্রতি আধা ঘণ্টা পরপর মাত্র ২-৩ মিনিট হাঁটা বা স্ট্রেচিং করলে রক্ত চলাচল সক্রিয় থাকে, রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমে। গবেষণা বলছে, যারা দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি বসে থাকেন, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩৪% বেশি।

হৃদয় সুস্থ রাখুন, ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে

হার্ট সুস্থ রাখতে কঠিন কিছু করতে হবে এই ধারণা বদলানোর সময় এসেছে। প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিটের সুশৃঙ্খল অভ্যাসই গড়ে তুলতে পারে এক সুস্থ হৃদপিণ্ড।

এই প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। কোনো ধরনের স্বাস্থ্যগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

আপনার হার্ট ভালো রাখবে যে ৫ অভ্যাস

সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

আপনার হার্ট সুস্থ রাখতে কি শুধু কঠোর ডায়েট আর ঘাম ঝরানো ব্যায়ামই দরকার? মার্কিন চিকিৎসক ড. নিকোলাস এনওয়াবুয়েজি এমনটি মনে করেন না। বরং তিনি বলছেন, প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট সময় দিলেই হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো বিশ্বের লাখো মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে বলেও মন্তব্য তার।

‘দ্য ফিটেস্ট ডক’ নামে অনলাইনে পরিচিত এই চিকিৎসক সম্প্রতি এমন ৫টি দৈনন্দিন অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন, যেগুলো হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হার্ট ভালো রাখবে যে ৫ অভ্যাস

১. প্রতিটি খাবারের পর হালকা হাঁটা

খাবার খাওয়ার পর একেবারে বসে পড়া শরীরের জন্য ভালো না। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। ড. এনওয়াবুয়েজি পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রতিটি খাবারের পরে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট হেঁটে নেয়া উচিত।

এতে হজম ভালো হয়, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দেহের প্রদাহ কমে। এমনকি মাত্র ২-৫ মিনিটের হালকা হাঁটার মাধ্যমেও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব যা হার্ট সুস্থ রাখার অন্যতম পূর্বশর্ত।

২. সকালে সূর্যের আলো গায়ে মাখানো

ভিটামিন ডি ছাড়াও সকালবেলার সূর্যের আলো শরীরের সার্বিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন : কালোজিরার তেল নিয়মিত খেলে কী ঘটে আপনার শরীরে

ড. এনওয়াবুয়েজির মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর এক ঘণ্টার মধ্যে প্রাকৃতিক আলোতে কিছুক্ষণ সময় কাটানো উচিত। কারণ, সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক না থাকলে ঘুমের সমস্যা, স্ট্রেস ও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে যেগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৩. প্লাস্টিক নয়, খাবার রাখুন কাঁচ বা স্টিলের পাত্রে

প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার রাখা কিংবা গরম করা সাধারণ হলেও তা ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক প্লাস্টিকে থাকা রাসায়নিক পদার্থ যেমন বিসফেনল-এ (বিপিএ) ও ফথালেটস শরীরে হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে এবং হৃদরোগ ও বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষত প্লাস্টিক গরম করলে এই ক্ষতিকর রাসায়নিকগুলো খাবারে মিশে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্লাস বা স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করুন।

৪. মোটিভেশনের পেছনে না ছুটে ছোট অভ্যাস গড়ে তুলুন

ড. এনওয়াবুয়েজি মনে করেন, হার্টের অসুস্থতা হঠাৎ করে হয় না। এটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়। তাই ছোট ছোট, ধারাবাহিক অভ্যাস যেমন- ফোনে কথা বলার সময় দাঁড়িয়ে থাকা, সিঁড়ি ব্যবহার করা, সাপ্তাহিকভাবে খাবার প্রস্তুত করা এসবই দীর্ঘমেয়াদে হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী হতে পারে। বড় সংকল্প নয়, বরং ক্ষুদ্র অভ্যাসই রক্ষা করতে পারে হার্টকে।

৫. কম বসুন, বেশি নড়াচড়া করুন

অনেকেই ভাবেন, দিনের শেষে ব্যায়াম করলেই হলো। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকা হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ যদি আপনি নিয়মিত ব্যায়ামও করেন। প্রতি আধা ঘণ্টা পরপর মাত্র ২-৩ মিনিট হাঁটা বা স্ট্রেচিং করলে রক্ত চলাচল সক্রিয় থাকে, রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমে। গবেষণা বলছে, যারা দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি বসে থাকেন, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩৪% বেশি।

হৃদয় সুস্থ রাখুন, ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে

হার্ট সুস্থ রাখতে কঠিন কিছু করতে হবে এই ধারণা বদলানোর সময় এসেছে। প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিটের সুশৃঙ্খল অভ্যাসই গড়ে তুলতে পারে এক সুস্থ হৃদপিণ্ড।

এই প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। কোনো ধরনের স্বাস্থ্যগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া