ফেসবুকে প্রথম পরিচয়। পরে একে অপরের সঙ্গে কথা বলা এবং একাধিকবার একে অপরের সঙ্গে দেখা করা। এভাবে নোয়াখালীর দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সাতক্ষীরার এক তরুণের। পরে বিয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় ওই ছাত্রী। পরে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যরা তার আর খোঁজ পাননি। সম্প্রতি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এক যৌনপল্লি থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে।
রোববার (২২ জুন) বেলা ১১টায় এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নোয়াখালীর সুধারাম থানায় দুই তরুণকে আসামি করে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তার মেয়ে মাদরাসায় দশম শ্রেণিতে পড়ালেখার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে পণ্য বিক্রি করত। এর মধ্যে তার মেয়ের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলার এক তরুণের পরিচয় হয়, যা পরবর্তী সময়ে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। গত ৬ মে তার মেয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে গয়না, নগদ টাকা নিয়ে জেলা শহর মাইজদীতে যায়।
সেখান থেকে অভিযুক্ত তরুণ তাকে বিয়ের কথা বলে বাসে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় নিয়ে যান। যাত্রাবাড়ীতে তারা একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। সেখানে ওই তরুণ তার মেয়ের কাছ থেকে গয়না ও টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে যান।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আনুমানিক ২০ দিন তার মেয়েকে যাত্রাবাড়ীর ওই আবাসিক হোটেলে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত তরুণ। এরপর গত ২৭ মে মেয়েকে ওই তরুণ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তরুণের পরিবারের লোকজন তার মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এরপর ওই তরুণ ঢাকায় এক বন্ধুর বাড়িতে মেয়েকে রেখে চলে যান। বাসায় রেখে যাওয়ার পর ওই তরুণের বন্ধু তার মেয়েকে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেন। সেখানে তার মেয়েকে ১০ দিন আটকে রাখা হয়।
আরো পড়ুন: মৌসুমী, বাপ্পারাজ, তিশাসহ একডজন তারকার ব্যাংক হিসাব জব্দ
এক পর্যায়ে আরেকটি মেয়ের মুঠোফোন থেকে বাড়িতে বড় বোনের কাছে ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত জানায় সে। পরে ১৮ জুন ‘প্রটেক্ট আওয়ার সিস্টার বিডি’ নামের একটি সংগঠন তার মেয়েকে উদ্ধার করে বাসযোগে নোয়াখালীর সোনাপুরে পাঠায়। সেখান থেকে তারা তার মেয়েকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরার ওই তরুণের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, বাদীর লিখিত অভিযোগ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে নেয়া হয়েছে। মামলায় সাতক্ষীরার তরুণ ও তার বন্ধুকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঢাকা ডেস্ক 









