০১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল: হাইকোর্টের ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • 72

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দেওয়া এ ঐতিহাসিক রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত কিছু অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনঃস্থাপন করে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন : কোনো কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে না ঐকমত্য কমিশন: আলী রীয়াজ

রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করেছে, ‘গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। তবে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে দলীয় সরকারের অধীনে জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি।’ রায়ে আরও বলা হয়, “জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার অভাবে অব্যাহত রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে।”

হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে। পাশাপাশি ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে।

  • ৭(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, সংবিধান বাতিল বা স্থগিত করার চেষ্টা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
  • ৭(খ) অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলিকে সংশোধনযোগ্য নয় বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
  • ৪৪(২) অনুচ্ছেদে সংসদের আইন দ্বারা হাইকোর্টের এখতিয়ার অন্য আদালতে প্রদান সংক্রান্ত বিধান ছিল।

আদালতের মতে, এ অনুচ্ছেদগুলো সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে লঙ্ঘন করেছে।

রায়ে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীন গণভোটের বিধান পুনরায় কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এ বিধানটি ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল, যা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়। আদালত এটিকে গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিবেচনায় বাতিল ঘোষণা করে পুনর্বহাল করে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। রিটকারী সংগঠন সুজনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ অনেকে। জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল: হাইকোর্টের ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দেওয়া এ ঐতিহাসিক রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত কিছু অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনঃস্থাপন করে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন : কোনো কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে না ঐকমত্য কমিশন: আলী রীয়াজ

রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করেছে, ‘গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। তবে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে দলীয় সরকারের অধীনে জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি।’ রায়ে আরও বলা হয়, “জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার অভাবে অব্যাহত রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে।”

হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে। পাশাপাশি ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে।

  • ৭(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, সংবিধান বাতিল বা স্থগিত করার চেষ্টা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
  • ৭(খ) অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলিকে সংশোধনযোগ্য নয় বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
  • ৪৪(২) অনুচ্ছেদে সংসদের আইন দ্বারা হাইকোর্টের এখতিয়ার অন্য আদালতে প্রদান সংক্রান্ত বিধান ছিল।

আদালতের মতে, এ অনুচ্ছেদগুলো সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে লঙ্ঘন করেছে।

রায়ে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীন গণভোটের বিধান পুনরায় কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এ বিধানটি ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল, যা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়। আদালত এটিকে গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিবেচনায় বাতিল ঘোষণা করে পুনর্বহাল করে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। রিটকারী সংগঠন সুজনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ অনেকে। জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।