০৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে কেন ভাইফোঁটা দেওয়া হয়?

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • 168

সনাতন ধর্মে ভাইবোনের মধুর খুনসুটি ও দায়িত্বশীলতাকে উদযাপন করার দিনটি হলো ভাইফোঁটা। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে, অর্থাৎ কালী পূজার দুই দিন পর এই উৎসব পালিত হয়। এই দিন বোনেরা ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন, আর ভাই তার বোনকে আজীবন রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সনাতন ধর্মের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্যদেব ও সংজ্ঞার সন্তান ছিলেন যমরাজ ও যমুনা। দীর্ঘদিন পর কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে মৃত্যুর দেবতা যম তার বোন যমুনার বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যান। যমুনা তাকে সাদরে বরণ করে ফোঁটা দেন এবং আপ্যায়ন করেন। যম বোনের এই ভ্রাতৃস্নেহে অভিভূত হয়ে আশীর্বাদ দিয়েছিলেন – যে বোন এই দিনে ভাইকে ফোঁটা দেবে, তার ভাই দীর্ঘজীবী হবে। এই কাহিনি থেকেই ভাইফোঁটার সূচনা বলে মনে করা হয়।

আরেকটি পৌরাণিক কাহিনী হলো, নরকাসুর বধের পর শ্রীকৃষ্ণ আহত অবস্থায় দ্বারকায় ফিরে এসেছিলেন। বোন সুভদ্রা সেই সময় তাকে ফোঁটা দিয়ে বিজয় তিলক পরিয়ে মিষ্টিমুখ করান। সেই থেকেই বোনেরা ভাইয়ের বিজয়, সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ুর জন্য ফোঁটা দিয়ে থাকেন।

যে কারণে বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে দেওয়া হয়

বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলকে সনাতনধর্মীরা মহাশূন‍্যের প্রতীক মনে করেন। সনাতনশাস্ত্রের মতে, পাঁচটি আঙুল পঞ্চভূতের প্রতীক। এই পঞ্চভূত হলো ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব‍্যোম। কনিষ্ঠ আঙুল প্রতীক ‘ব্যোম’ বা আকাশ তত্ত্ব। যার অর্থ অসীমতা। তাই ভাইফোঁটা দেওয়া হয় বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে, যাতে ভাইবোনের সম্পর্ক আকাশের মতই অসীম ও অটুট থাকে।

ভাইফোঁটা দেওয়ার নিয়ম

এই রীতিতে বোন প্রথমে গোসল করে নতুন পোশাক পরে, পবিত্র মনে ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা দেন। চন্দন কাঠ ঘষে দই মিশিয়ে কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে এ ফোঁটা দেওয়া হয়। ফোঁটা দেওয়ার সময় বলা হয় – ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা। যমুনা দিল যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।’

এরপর চলে আশীর্বাদের পালা। আশীর্বাদের সময় ধান ও দূর্বার শিষ ব‍্যবহৃত হয়। এছাড়া পূজার থালিতে শঙ্খ, প্রদীপ, মধু নেওয়া হয়। সঙ্গে মিষ্টিমুখ ও উপহার তো থাকেই। দিনে বা রাতে বিশেষ খাবারের আয়োজনও করা হয়ে থাকে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে কেন ভাইফোঁটা দেওয়া হয়?

সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

সনাতন ধর্মে ভাইবোনের মধুর খুনসুটি ও দায়িত্বশীলতাকে উদযাপন করার দিনটি হলো ভাইফোঁটা। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে, অর্থাৎ কালী পূজার দুই দিন পর এই উৎসব পালিত হয়। এই দিন বোনেরা ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন, আর ভাই তার বোনকে আজীবন রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সনাতন ধর্মের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্যদেব ও সংজ্ঞার সন্তান ছিলেন যমরাজ ও যমুনা। দীর্ঘদিন পর কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে মৃত্যুর দেবতা যম তার বোন যমুনার বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যান। যমুনা তাকে সাদরে বরণ করে ফোঁটা দেন এবং আপ্যায়ন করেন। যম বোনের এই ভ্রাতৃস্নেহে অভিভূত হয়ে আশীর্বাদ দিয়েছিলেন – যে বোন এই দিনে ভাইকে ফোঁটা দেবে, তার ভাই দীর্ঘজীবী হবে। এই কাহিনি থেকেই ভাইফোঁটার সূচনা বলে মনে করা হয়।

আরেকটি পৌরাণিক কাহিনী হলো, নরকাসুর বধের পর শ্রীকৃষ্ণ আহত অবস্থায় দ্বারকায় ফিরে এসেছিলেন। বোন সুভদ্রা সেই সময় তাকে ফোঁটা দিয়ে বিজয় তিলক পরিয়ে মিষ্টিমুখ করান। সেই থেকেই বোনেরা ভাইয়ের বিজয়, সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ুর জন্য ফোঁটা দিয়ে থাকেন।

যে কারণে বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে দেওয়া হয়

বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলকে সনাতনধর্মীরা মহাশূন‍্যের প্রতীক মনে করেন। সনাতনশাস্ত্রের মতে, পাঁচটি আঙুল পঞ্চভূতের প্রতীক। এই পঞ্চভূত হলো ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব‍্যোম। কনিষ্ঠ আঙুল প্রতীক ‘ব্যোম’ বা আকাশ তত্ত্ব। যার অর্থ অসীমতা। তাই ভাইফোঁটা দেওয়া হয় বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে, যাতে ভাইবোনের সম্পর্ক আকাশের মতই অসীম ও অটুট থাকে।

ভাইফোঁটা দেওয়ার নিয়ম

এই রীতিতে বোন প্রথমে গোসল করে নতুন পোশাক পরে, পবিত্র মনে ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা দেন। চন্দন কাঠ ঘষে দই মিশিয়ে কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে এ ফোঁটা দেওয়া হয়। ফোঁটা দেওয়ার সময় বলা হয় – ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা। যমুনা দিল যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।’

এরপর চলে আশীর্বাদের পালা। আশীর্বাদের সময় ধান ও দূর্বার শিষ ব‍্যবহৃত হয়। এছাড়া পূজার থালিতে শঙ্খ, প্রদীপ, মধু নেওয়া হয়। সঙ্গে মিষ্টিমুখ ও উপহার তো থাকেই। দিনে বা রাতে বিশেষ খাবারের আয়োজনও করা হয়ে থাকে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস