স্কুলের গণ্ডি না পেরোনো ছেলেমেয়ে অথবা অকালপক্ব বয়সে মাথায় পাকা চুল উঁকি দেওয়া তো স্বাভাবিক নয়। আর সে লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করলে অভিভাবকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ারই কথা। সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে এর কারণ ও প্রতিকার।
শতকরা ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে চুলে পাক ধরার বিষয়টি যদি জিনগত হয়, বাকি ৫ শতাংশ হয় শারীরিক কারণে বা শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজের অভাবে।
জেনে নিন সম্ভাব্য সমাধান-
ধূমপান পরিহার করুন
বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, ধূমপান শরীরের প্রিম্যাচিউর এইজিং (premature ageing)-এর জন্য দায়ী। ধূমপান বন্ধ করলে সার্কুলেশন (circulation) পর্যাপ্ত গতিতে চলে আর চুলের অকাল-পক্কতাও রোধ হয়। তাহলে দেখলেন তো সিগারেট শরীরের ক্ষতি করে, পকেটের-ও ক্ষতি করে।
শরীরের আদ্রতা বজায় রাখুন
ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহলের পরিমাণ কমিয়ে পানি পান করুন বেশি বেশি। মশলাদার আর ভাজাভুজি জাতীয় খাবারও এড়িয়ে চলুন, যেহেতু এই খাবারগুলো শরীরকে ডিহাইড্রেট (dehydrate) করে শুষ্ক করে তোলে। আদ্রতার অভাবে পুষ্টিকর উপাদান চুলের ফলিকলে পৌঁছাতে পারে না, ফলশ্রুতিতে পাকা চুলের আনাগোনা দেখা যায়।
কপার সমৃদ্ধ খাবার খান
অনেক সময় শরীরে কপারের অভাব হলে চুল পেকে যেতে পারে, যেহেতু এটা মেলানিন উৎপন্নে সাহায্য করে। তাই আপনার খাদ্য তালিকায় পালংশাক, মাংস, আনারস, ডালিম, বাদাম, গরুর কলিজা, মাশরুম-এগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখুন। প্রতিদিন মাল্টি-ভিটামিনও খেতে পারেন, যেহেতু এর বেশির ভাগই কপার ধারণ করে।
আয়োডিন যুক্ত খাবার খান
অল্প বয়সে চুল পাকা রোধে আয়োডিনযুক্ত খাবার – shajgoj.com
আয়োডিন হলো আরেকটি মিনারেল যেটি চুলের রঙ বজায় রাখে। কলা, গাজর, সামুদ্রিক মাছ এবং পালং শাকের মত আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান প্রোটিন
মেলানিন উৎপন্নের জন্য প্রোটিনের অবদান অনস্বীকার্য। তাই শুধু কার্বোহাইড্রেট নয় প্রোটিনের সাথেও সখ্যতা গড়ে তুলুন। যদি আপনি রুটি খান তবে তার সাথে একটি ডিম খেয়ে কার্বোহাইড্রেড আর প্রোটিনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে নিন।
পর্যাপ্ত ঘুম
পর্যাপ্ত ঘুম চনমনে, ফুরফুরে শরীরের জন্য ওষুধের মত কাজ করে। আমার কথাটা মেনেই দেখুন আপনার সব স্ট্রেস গায়েব হয়ে যাবে। আর আগেই বলেছি স্ট্রেস ফ্রি লাইফ মানেই পাকা চুলের উঁকি ঝুকিও গায়েব।
বি গ্রুপের ভিটামিনের উপর গুরুত্ব দিন
ভিটামিন বি২, বি৬ এবং বি১২-এর অভাব চুলের অকাল-পক্বতার আরেকটি কারণ। বায়োটিন আর ফলিক এসিডের অভাবে চুল পাকা ধরে। ভিটামিন বি৬, বি১২ লাল রক্ত কনিকা তৈরির জন্য দরকার। আর এই রক্ত কণিকার মাধ্যমেই স্ক্যাল্পে পুষ্টি আর অক্সিজেন পৌঁছায়। কলা, ডিম, মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, শাকসবজি, পাস্তা বি গ্রুপের ভিটামিনে ভরপুর।
সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার নির্বাচন করুন
সেলেনিয়াম এক ধরণের মিনারেল যা মানুষের শরীরের জন্য খুব উপকারী, বিশেষ করে চুলের বৃদ্ধি ও চুলের অকাল-পক্কতা ঠেকানোর জন্য। ফ্রি রেডিক্যাল যা বুড়িয়ে যাওয়া (aging process) তরান্বিত করে। সেলেনিয়াম এই ফ্রি রেডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের রক্ষা করে। স্যামন ফিশ, টুনা ফিশ, আখরোট, কিশমিশ সেলেনিয়ামের খুব ভালো উৎস।
স্ট্রেস থেকে দূরে থাকুন
স্ট্রেস চুলের অকাল-পক্কতার প্রধান কারণ। হাসি খুশিতে জীবনটা ভরিয়ে তুলুন। দিনে কয়েকবার লম্বা শ্বাস নিন আর ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। হাজার ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নিন। টেনশন কাটানোর জন্য অনেক সময় নিয়ে গোসল করুন।
ঘরোয়া সমাধান
ঝিঙা তরকারি নারকেল তেলের সাথে ফুটিয়ে চুলে লাগালে আপনার পাকা চুল রোধ হবে।
প্রতিদিন রাতে আমলকীর রস, বাদামের তেল আর কয়েক ফোটা লেবুর রস চুলে ম্যাসাজ করুন, অল্প বয়সে চুল পাকা থেকে রেহাই পাবেন।
চায়ের ঘন লিকার চুলে লাগালে চুল তার রঙ হারায় না।
ঢাকা ডেস্ক 















