সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলেই বুক ধড়ফড় করে এমন সমস্যা অনেকেই রয়েছে। কারো কারো ক্ষেত্রে এই অনুভূতি দ্রুত চলে যায়। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত হৃৎস্পন্দন উদ্বেগজনক হরে পারে। অনেকসময় এর কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অনেকে জানে না কেন এমন হয়? আর কখন এ বিষয়ে চিন্তিত হওয়া দরকার? আসুন জেনে নেওয়া যাক কেনো ধড়ফড় করে ও করণীয় কি।
শারীরিক সমস্যা
রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), থাইরয়েডের অসুস্থতা, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি স্বাস্থ্যসমস্যাও সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় বুক ধড়ফড়ের কারণ হতে পারে।
শরীরের সাময়িক অবস্থা
ক্লান্তি, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত কফি বা চা খাওয়া, শরীরে পানিশূন্যতা ইত্যাদি কারণে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। তখন সামান্য পরিশ্রমেই হার্টবিট বেড়ে যায় এবং সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে বুক ধড়ফড় অনুভূত হয়।
মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে কাজ
সমতল মাটিতে হাঁটার চেয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা কঠিন। কেননা এটি মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে ঘটে। বেশি সময় সিঁড়ি ভাঙলে পায়ের পেশি ভারী লাগে এবং শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ কমতে থাকে। তখন হার্ট আরো দ্রুত রক্ত পাম্প করে, ফলে বুক ধড়ফড় করতে থাকে।
শরীরচর্চার প্রভাব
যারা অলস জীবনযাপন করেন, তাদের ক্ষেত্রে সিঁড়ি ভাঙলে বুক ধড়ফড় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইউরোপিয়ান জার্নাল অব কার্ডিওভাসকুলার মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, অলস মানুষের হৃৎস্পন্দন সিঁড়ি ভাঙার সময় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
যখন সতর্ক হতে হবে
সিঁড়ি ভাঙার সময় বুক ধড়ফড়ের সঙ্গে যদি বুকে অস্বস্তি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ইসিজি, স্ট্রেস টেস্ট বা ইকোকার্ডিওগ্রামের মতো সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায় সমস্যাটি সাধারণ না গুরুতর।
মাঝে মাঝে বুক ধড়ফড় স্বাভাবিক হলেও, উপসর্গ যদি ঘন ঘন হয় বা বাড়তে থাকে, তবে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।
সূত্র : আনন্দবাজার
সিঁড়ি বাওয়া, বুক ধড়ফড় 















