১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

১৫ হাজার টাকার জন্য মরদেহ আটকে রাখলেন সুদ কারবারি

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 133

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামে ঘটেছে এক চরম অমানবিক ঘটনা। রাজমিস্ত্রি হারুনের (৪৫) মরদেহ দাফনের আগে আটকে রেখে আদায় করা হয়েছে সুদের টাকা। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নিন্দার ঝড়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার মেয়ের বাড়ি মেহেরপুরের মহাজনপুরে বেড়াতে গিয়ে স্ট্রোকে মারা যান হারুন। রোববার মরদেহ নিজ গ্রামে আনা হলে আছরের নামাজের পর দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই সময় প্রতিবেশী প্রয়াত মোহন আলীর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন মরদেহ গোসলের মুহূর্তে এসে দাবি করেন, হারুনের কাছে তার সুদের ১৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা না দিলে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন তিনি।

ঘটনায় শোকাহত পরিবার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে টাকার জন্য শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। প্রায় এক ঘণ্টা মরদেহ আটকে রাখার পর অবশেষে পরিবার জোগাড় করা ১৫ হাজার টাকা খাটিয়ার ওপর রেখে দেয়। টাকা নিয়েই জনরোষের মুখে এলাকা ছেড়ে পালান মর্জিনা।

আরও পড়ুন : ভ্রাম্যমাণ টয়লেট পরিচালনা শিখতে চীন যাচ্ছেন ৩ সরকারি কর্মকর্তা

হারুনের চাচাতো ভাই মতিনুর ইসলাম মানিক জানান, দেড় মাস আগে হারুন মর্জিনার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর তিনি সুদসহ ২২ হাজার টাকা দাবি করেন। পরিবার অনুরোধ করে দাফনের পর মিটমাট করার প্রস্তাব দিলেও তিনি রাজি হননি। এমনকি পরিবার একটি গরু জামানত দিতে চাইলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন মর্জিনা। শেষ পর্যন্ত দরকষাকষির পর ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মর্জিনা দীর্ঘদিন ধরে সুদের কারবার চালাচ্ছেন। ঋণ দিয়ে অসহায় মানুষকে বিপদে ফেলেন এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে উল্টো নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখান। এ কারণে গ্রামে অনেকেই মুখ খোলার সাহস পান না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, “মূল টাকা হারুন জীবিত থাকতেই পরিশোধ করেছিলেন। মৃত্যুর পর মরদেহ আটকে রেখে সুদের টাকা আদায় করা ন্যাক্কারজনক ও লজ্জাজনক কাজ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসার নামে মানুষকে সর্বনাশ করছেন।”

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

১৫ হাজার টাকার জন্য মরদেহ আটকে রাখলেন সুদ কারবারি

সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা গ্রামে ঘটেছে এক চরম অমানবিক ঘটনা। রাজমিস্ত্রি হারুনের (৪৫) মরদেহ দাফনের আগে আটকে রেখে আদায় করা হয়েছে সুদের টাকা। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নিন্দার ঝড়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার মেয়ের বাড়ি মেহেরপুরের মহাজনপুরে বেড়াতে গিয়ে স্ট্রোকে মারা যান হারুন। রোববার মরদেহ নিজ গ্রামে আনা হলে আছরের নামাজের পর দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই সময় প্রতিবেশী প্রয়াত মোহন আলীর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন মরদেহ গোসলের মুহূর্তে এসে দাবি করেন, হারুনের কাছে তার সুদের ১৫ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা না দিলে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন তিনি।

ঘটনায় শোকাহত পরিবার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে টাকার জন্য শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। প্রায় এক ঘণ্টা মরদেহ আটকে রাখার পর অবশেষে পরিবার জোগাড় করা ১৫ হাজার টাকা খাটিয়ার ওপর রেখে দেয়। টাকা নিয়েই জনরোষের মুখে এলাকা ছেড়ে পালান মর্জিনা।

আরও পড়ুন : ভ্রাম্যমাণ টয়লেট পরিচালনা শিখতে চীন যাচ্ছেন ৩ সরকারি কর্মকর্তা

হারুনের চাচাতো ভাই মতিনুর ইসলাম মানিক জানান, দেড় মাস আগে হারুন মর্জিনার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর তিনি সুদসহ ২২ হাজার টাকা দাবি করেন। পরিবার অনুরোধ করে দাফনের পর মিটমাট করার প্রস্তাব দিলেও তিনি রাজি হননি। এমনকি পরিবার একটি গরু জামানত দিতে চাইলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন মর্জিনা। শেষ পর্যন্ত দরকষাকষির পর ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মর্জিনা দীর্ঘদিন ধরে সুদের কারবার চালাচ্ছেন। ঋণ দিয়ে অসহায় মানুষকে বিপদে ফেলেন এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে উল্টো নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখান। এ কারণে গ্রামে অনেকেই মুখ খোলার সাহস পান না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, “মূল টাকা হারুন জীবিত থাকতেই পরিশোধ করেছিলেন। মৃত্যুর পর মরদেহ আটকে রেখে সুদের টাকা আদায় করা ন্যাক্কারজনক ও লজ্জাজনক কাজ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুদের ব্যবসার নামে মানুষকে সর্বনাশ করছেন।”

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”