১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ঋণের চাপে আত্মহত্যা-ঋণেই চল্লিশা, যা বলছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 141

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। পুরোনো ছবি

‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে’ চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছিলেন রাজশাজীর পবা উপজেলার মিনারুল ইসলাম। এরপর আবার ঋণ করে মিনারুলের চল্লিশা করেছেন তার বাবা। এ জন্য শুধু ঋণই করেননি, জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। এ ঘটনাকে ধর্মীয় শিক্ষার অভাব বলে অভিহিত করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ঋণের ভারে যিনি আত্মহত্যা করলেন, ঋণ করে তার চল্লিশা করা হলো। দীনি শিক্ষার অভাব এবং দীন সম্পর্কে অজ্ঞতা যে কতটা নির্মম হতে পারে, এই ঘটনা থেকে তা আমরা নতুন করে উপলব্ধি করলাম।

শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, ইসলাম অত্যন্ত যৌক্তিক ও প্রাকৃতিক ধর্ম। ইসলাম যতগুলো আর্থিক ইবাদত আবশ্যক করেছে, সবই সামর্থ্যবানদের জন্য। কিন্তু ইসলামের ভেতর চল্লিশা নামের যে কুসংস্কার আমরা ঢুকিয়েছি, অনেক এলাকায় সেটা সবার ওপর আবশ্যক। এমনকি ঋণ কিংবা জমি বিক্রি করে হলেও তা পালন করতে হয়।

তিনি বলেন, অন্যান্য দলিল-প্রমাণ একপাশে সরিয়ে রেখে শুধু এটুকু দেখেই চল্লিশার অযৌক্তিকতা ও অন্তঃসারশূন্যতা উপলব্ধি করা যায়। আল্লাহ-প্রদত্ত বিধান আর মানুষের তৈরি নিয়মের মৌলিক পার্থক্য এখানেই।

আরও পড়ুন : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব-পর্দা নিয়ে আহমাদুল্লাহর স্ট্যাটাস

 

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, লোকটি ঋণে জর্জরিত হয়ে মারা গেছেন। আর আজকাল সুদবিহীন ঋণ সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। অভিশপ্ত সুদ কীভাবে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে দরিদ্রকে আরও নিঃস্ব বানাচ্ছে আর সুদি মহাজনদের বানাচ্ছে আরও বিত্তশালী, আলোচ্য ঘটনা তার একটি উদাহরণ।

‘ঋণের ছোবলে জীবনের ওপর কতটা অন্ধকার নামলে কোনো মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে—আপনাদের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম।

সবশেষে তিনি বলেন, এই জাতীয় ঘটনা দুদিন পরপর ঘটে আর আমাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে বলে যায়, দীনের চর্চা এবং ইসলামী অনুশাসন ও মূল্যবোধ ছাড়া প্রকৃত সুখের ঠিকানা আমরা কোনোদিন খুঁজে পাব না।’, যোগ করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ঋণের চাপে আত্মহত্যা-ঋণেই চল্লিশা, যা বলছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে’ চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছিলেন রাজশাজীর পবা উপজেলার মিনারুল ইসলাম। এরপর আবার ঋণ করে মিনারুলের চল্লিশা করেছেন তার বাবা। এ জন্য শুধু ঋণই করেননি, জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। এ ঘটনাকে ধর্মীয় শিক্ষার অভাব বলে অভিহিত করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ঋণের ভারে যিনি আত্মহত্যা করলেন, ঋণ করে তার চল্লিশা করা হলো। দীনি শিক্ষার অভাব এবং দীন সম্পর্কে অজ্ঞতা যে কতটা নির্মম হতে পারে, এই ঘটনা থেকে তা আমরা নতুন করে উপলব্ধি করলাম।

শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, ইসলাম অত্যন্ত যৌক্তিক ও প্রাকৃতিক ধর্ম। ইসলাম যতগুলো আর্থিক ইবাদত আবশ্যক করেছে, সবই সামর্থ্যবানদের জন্য। কিন্তু ইসলামের ভেতর চল্লিশা নামের যে কুসংস্কার আমরা ঢুকিয়েছি, অনেক এলাকায় সেটা সবার ওপর আবশ্যক। এমনকি ঋণ কিংবা জমি বিক্রি করে হলেও তা পালন করতে হয়।

তিনি বলেন, অন্যান্য দলিল-প্রমাণ একপাশে সরিয়ে রেখে শুধু এটুকু দেখেই চল্লিশার অযৌক্তিকতা ও অন্তঃসারশূন্যতা উপলব্ধি করা যায়। আল্লাহ-প্রদত্ত বিধান আর মানুষের তৈরি নিয়মের মৌলিক পার্থক্য এখানেই।

আরও পড়ুন : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব-পর্দা নিয়ে আহমাদুল্লাহর স্ট্যাটাস

 

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, লোকটি ঋণে জর্জরিত হয়ে মারা গেছেন। আর আজকাল সুদবিহীন ঋণ সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। অভিশপ্ত সুদ কীভাবে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে দরিদ্রকে আরও নিঃস্ব বানাচ্ছে আর সুদি মহাজনদের বানাচ্ছে আরও বিত্তশালী, আলোচ্য ঘটনা তার একটি উদাহরণ।

‘ঋণের ছোবলে জীবনের ওপর কতটা অন্ধকার নামলে কোনো মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে—আপনাদের কাছে প্রশ্ন রেখে গেলাম।

সবশেষে তিনি বলেন, এই জাতীয় ঘটনা দুদিন পরপর ঘটে আর আমাদেরকে চোখে আঙুল দিয়ে বলে যায়, দীনের চর্চা এবং ইসলামী অনুশাসন ও মূল্যবোধ ছাড়া প্রকৃত সুখের ঠিকানা আমরা কোনোদিন খুঁজে পাব না।’, যোগ করেন তিনি।