০৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

হযরত মুসা (আ.) এর পর্বতে রিসোর্ট নির্মানের পরিকল্পনা মিশরের, তীব্র সমালোচনা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 146

বিশ্বের তিনটি প্রধান ধর্মের কাছে সমানভাবে পবিত্র ‘সিনাই’ বা মুসার পর্বত। বিশ্বাস করা হয়, এখানেই আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন হযরত মুসা (আ.)। কিন্তু এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের স্থানেই বিলাসবহুল হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ শুরু করেছে মিসর সরকার। আর এই উদ্যোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ।

স্থানীয় বেদুইন জনগোষ্ঠী ও ধর্মীয় মহলের দাবি, এ প্রকল্প তাদের মতামত উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ ভ্রমণ লেখক বেন হফলার বলেন, “এটা এমন কোনো উন্নয়ন নয় যা স্থানীয়রা চেয়েছিল। বরং এটি বাইরের পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করছে।”

আরও পড়ুন : মসজিদের খতিবকে কু‌পি‌য়ে হত্যা

পবিত্র এ স্থানটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত। এখানে ষষ্ঠ শতাব্দীতে নির্মিত প্রাচীন খ্রিস্টান মঠ ‘সেন্ট ক্যাথেরিনস’ অবস্থিত। গ্রিসের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত এ মঠকে কেন্দ্র করে এর আগে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছিল। এ কারণে গ্রিস মিসরের নতুন প্রকল্পের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সরব।

অন্যদিকে জেরুজালেমের গ্রিক অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্কেট জানিয়েছে, এই স্থানের ধর্মীয় কর্তৃত্ব তাদের হাতে। এমনকি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজ হাতে এ মঠের জন্য একটি সুরক্ষা পত্র দিয়েছিলেন। মঠের ভেতরে ফাতেমি আমলে নির্মিত একটি মসজিদও রয়েছে, যা মুসলিম-খ্রিস্টান সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এই বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্প পবিত্র স্থানটির ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবহকে নষ্ট করে দিতে পারে। তবে সরকার দ্রুত গতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

হযরত মুসা (আ.) এর পর্বতে রিসোর্ট নির্মানের পরিকল্পনা মিশরের, তীব্র সমালোচনা

সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিশ্বের তিনটি প্রধান ধর্মের কাছে সমানভাবে পবিত্র ‘সিনাই’ বা মুসার পর্বত। বিশ্বাস করা হয়, এখানেই আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন হযরত মুসা (আ.)। কিন্তু এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের স্থানেই বিলাসবহুল হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ শুরু করেছে মিসর সরকার। আর এই উদ্যোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ।

স্থানীয় বেদুইন জনগোষ্ঠী ও ধর্মীয় মহলের দাবি, এ প্রকল্প তাদের মতামত উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ ভ্রমণ লেখক বেন হফলার বলেন, “এটা এমন কোনো উন্নয়ন নয় যা স্থানীয়রা চেয়েছিল। বরং এটি বাইরের পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করছে।”

আরও পড়ুন : মসজিদের খতিবকে কু‌পি‌য়ে হত্যা

পবিত্র এ স্থানটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত। এখানে ষষ্ঠ শতাব্দীতে নির্মিত প্রাচীন খ্রিস্টান মঠ ‘সেন্ট ক্যাথেরিনস’ অবস্থিত। গ্রিসের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত এ মঠকে কেন্দ্র করে এর আগে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছিল। এ কারণে গ্রিস মিসরের নতুন প্রকল্পের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সরব।

অন্যদিকে জেরুজালেমের গ্রিক অর্থোডক্স প্যাট্রিয়ার্কেট জানিয়েছে, এই স্থানের ধর্মীয় কর্তৃত্ব তাদের হাতে। এমনকি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজ হাতে এ মঠের জন্য একটি সুরক্ষা পত্র দিয়েছিলেন। মঠের ভেতরে ফাতেমি আমলে নির্মিত একটি মসজিদও রয়েছে, যা মুসলিম-খ্রিস্টান সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এই বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্প পবিত্র স্থানটির ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবহকে নষ্ট করে দিতে পারে। তবে সরকার দ্রুত গতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।