রাজশাহীর বাগমারায় সরকারি গুদামে দুঃস্থ ও গরিব মানুষের জন্য মজুদ রাখা শত শত বস্তা পচা, দুর্গন্ধযুক্ত ও নিম্নমানের চালের সন্ধান মিলেছে। অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েকদিন ধরেই এসব চাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে দুটি গুদাম সিলগালা করে চার বস্তা চাল নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নবী নওয়াজেস আমিন উপস্থিত ছিলেন।
তল্লাশির সময় দেখা যায়, গুদামের বস্তাগুলোতে ছিদ্র করে ভেতরের চাল পরীক্ষা করা হলে সেগুলো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং চালগুলো দৃশ্যতই খাবার অনুপযোগী। ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ‘গুদামে বিপুল পরিমাণ পচা চাল পাওয়া গেছে, যা একেবারেই ভোজ্য নয়। এ কারণে গুদাম সিলগালা করে চালের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’
আরও পড়ুন : নির্বাচন সামনে রেখে দেড় লাখ পুলিশ সদস্য পাচ্ছেন বিশেষ প্রশিক্ষণ
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ২ হাজার ৭২৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ধানগুলো চাতালে প্রক্রিয়াজাত করে চাল হিসেবে গুদামে রাখার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কৃষকের কাছ থেকে কেনা ভালো মানের চাল বাজারে বিক্রি করে নিম্নমানের চাল সরকারি গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। এই চালই দুঃস্থ নারী ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতাভুক্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছিল।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘সুবিধাভোগী নারীরা যে চাল পাচ্ছিলেন, সেগুলো পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ছিল। অভিযানে এসে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।’
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নবী নওয়াজেস আমিন জানান, চাল সংগ্রহের দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। এ বিষয়ে দায়ভার তার ওপরই বর্তাবে।
ঢাকা ডেস্ক 









