১১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘কাজিকি’

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • 133

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘কাজিকি’। এরই মধ্যে ভিয়েতনামজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। ঝড়ের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটির উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ৬ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ঝড়ের কেন্দ্রস্থলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬৬ কিলোমিটার ছাড়িয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার (২৫ আগস্ট) উপকূলে আঘাত হানার সময় এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রদেশ থান হোয়া, কোয়ান ত্রি, হিউ ও ডা নাং–এর বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝড় মোকাবেলায় আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের ফ্লাইট ও সমুদ্রযান চলাচল। বিশেষ সতর্কতা হিসেবে মাছ ধরার নৌকা থেকে শুরু করে পর্যটকবাহী জাহাজ পর্যন্ত কোনো জলযানকে সমুদ্রে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুন : ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘এরিন’

এর আগে কাজিকি চীনের হাইনান দ্বীপের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি আরও অন্তত ৩২০ মিলিমিটার বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ধীরে ধীরে এটি তাইওয়ানের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। যদিও তাইওয়ানে প্রবেশের পর ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হতে পারে, তবুও বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে হতে পারে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বর্ষণ এবং ২ থেকে ৪ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস, যা মারাত্মক বন্যার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

ভিয়েতনামের কৃষি মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, ঝড়ে ফসলের পাশাপাশি মাছের খামার ও সামুদ্রিক অর্থনীতি ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এরই মধ্যে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স রবিবার ও সোমবারের ২২টি ফ্লাইট স্থগিত করেছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় জরুরি তৎপরতা চালাতে সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যেকোনো সময় ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে প্রাণহানি এড়ানো যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘কাজিকি’

সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘কাজিকি’। এরই মধ্যে ভিয়েতনামজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। ঝড়ের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটির উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ৬ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ঝড়ের কেন্দ্রস্থলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬৬ কিলোমিটার ছাড়িয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার (২৫ আগস্ট) উপকূলে আঘাত হানার সময় এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রদেশ থান হোয়া, কোয়ান ত্রি, হিউ ও ডা নাং–এর বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝড় মোকাবেলায় আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের ফ্লাইট ও সমুদ্রযান চলাচল। বিশেষ সতর্কতা হিসেবে মাছ ধরার নৌকা থেকে শুরু করে পর্যটকবাহী জাহাজ পর্যন্ত কোনো জলযানকে সমুদ্রে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুন : ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘এরিন’

এর আগে কাজিকি চীনের হাইনান দ্বীপের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি আরও অন্তত ৩২০ মিলিমিটার বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ধীরে ধীরে এটি তাইওয়ানের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। যদিও তাইওয়ানে প্রবেশের পর ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হতে পারে, তবুও বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে হতে পারে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বর্ষণ এবং ২ থেকে ৪ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস, যা মারাত্মক বন্যার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

ভিয়েতনামের কৃষি মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, ঝড়ে ফসলের পাশাপাশি মাছের খামার ও সামুদ্রিক অর্থনীতি ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এরই মধ্যে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স রবিবার ও সোমবারের ২২টি ফ্লাইট স্থগিত করেছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় জরুরি তৎপরতা চালাতে সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যেকোনো সময় ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে প্রাণহানি এড়ানো যায়।