আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্টি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘এরিন’ ক্রমেই ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। মার্কিন জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র (এনএইচসি) জানিয়েছে, রেকর্ড সময়ের মধ্যে এটি ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার ঝড়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৩৩ কিলোমিটার।
শনিবার (১৬ আগস্ট) রাতে ঘূর্ণিঝড়টি অ্যাঙ্গুইলা থেকে প্রায় ১২০ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থান করছিল। এনএইচসি সতর্ক করেছে, রোববার থেকে এরিন বাহামা, বারমুডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে এটি প্রথমে ক্যাটাগরি–১ ঝড় ছিল, তখন বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার। কিন্তু পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘এরিন’ ক্যাটাগরি–৫ এ পৌঁছে যায়, বাতাসের গতি বেড়ে দাঁড়ায় ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারেরও বেশি। এত দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করা ঝড় আটলান্টিক মহাসাগরে বিরল ঘটনা।
আরও পড়ুন : ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে সেন্ট থমাস ও সেন্ট জন দ্বীপে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সেন্ট মার্টিন, সেন্ট বার্থেলেমি, সিন্ট মার্টেন এবং তুর্কস ও কাইকোস দ্বীপপুঞ্জে ট্রপিক্যাল স্টর্ম সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘এরিন’-এর প্রভাবে কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, যা আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস ডেকে আনতে পারে।
এনএইচসি আরও জানিয়েছে, রোববার থেকে উত্তর লিওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জ, ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, পুয়ের্তো রিকো, হিস্পানিওলা ও টার্কস–কাইকোস দ্বীপপুঞ্জে ঝড়ের প্রভাব পড়বে। এরপর এর ধাক্কা যাবে বাহামা, বারমুডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে।
আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা— ঘূর্ণিঝড় ‘এরিন’ কেবল বাতাসের শক্তিতেই নয়, বরং প্রবল বর্ষণ ও সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের কারণেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। স্থানীয়দের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকা ডেস্ক 









