জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক সহকারী প্রক্টর ও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিঞা।
পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হিসেবে জনিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
৩৬ বছর বয়সী মাহমুদুর রহমান জনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হারুয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।
আরও পড়ুন : নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের ছাদে ফের ধস, ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা
জনির বিরুদ্ধে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে জাবি প্রশাসন।
এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে জনির একাধিক অন্তরঙ্গ ছবি ও অডিও রেকর্ড ফাঁস হলে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ওই সময় প্রকাশ্যে আসা অডিওতে একজন ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়ার কথাও শোনা যায়। এছাড়া জনির সঙ্গে ছাত্রলীগের একাধিক নেত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক ও আপত্তিকর আলাপচারিতার প্রমাণ প্রকাশ্যে এলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ তার বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মেলে এবং তার বিরুদ্ধে গঠিত হয় স্ট্রাকচার্ড কমিটি। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।
তবে নতুন করে আন্দোলনকালীন হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তার গ্রেপ্তারকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা ডেস্ক 









