জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সরকারি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আবারও যাচাই–বাছাই শুরু করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গেজেটে আন্দোলনে সম্পৃক্ত না থেকেও কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সমালোচনার মুখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সব জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ শেষে প্রকৃত শহীদ ও আহতদের নাম নিশ্চিত করা হবে। যারা আন্দোলনে ছিলেন না অথচ তালিকায় নাম উঠেছে, তাঁদের বাদ দিয়ে নতুন গেজেট প্রকাশ করা হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমে ৮৩৪ জনকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার। পরে আরও ১০ জন যুক্ত হলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৪৪ জন। তবে আগস্টের শুরুতে আটজনের নাম বাদ দেওয়া হয়—তাদের মধ্যে চারজনের নাম ছিল পুনরাবৃত্ত, আর বাকি চারজন সরাসরি আন্দোলনে জড়িত ছিলেন না। এখন সরকারি হিসাবে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।
আরও পড়ুন : স্থায়ী চাকরির দাবি আহত জুলাই যোদ্ধা মিশনের
প্রথম তালিকায় আহত ছিলেন ১২ হাজার ৪৩ জন। পরে আরও ১ হাজার ৭৫৭ জন যুক্ত হওয়ায় সরকারি হিসাবে মোট আহতের সংখ্যা হয়েছে ১৩ হাজার ৮০০। তবে অভিযোগ উঠেছে, অনেক ভুয়া নামও ঢুকে পড়েছে। এর আগে জুনে মন্ত্রণালয় ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন মিলে ২৫টি ভুয়া নাম শনাক্ত করে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যশোরে হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে অগ্নিকাণ্ডে ২৪ জন নিহত হন। তাদের শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলছেন, তারা আন্দোলনে ছিলেন, আবার কেউ বলছেন ছিলেন না। প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যশোরের ডিসি।
প্রতিটি শহীদ পরিবারকে সরকার মোট ৩০ লাখ টাকা দিচ্ছে—এর মধ্যে ১০ লাখ ইতিমধ্যে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে, বাকি ২০ লাখ দেওয়া হবে আগামী অর্থবছরে। এছাড়া মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতাও পাচ্ছে পরিবারগুলো। তবে যশোরের ওই ২৪ জনের পরিবারকে সঞ্চয়পত্র দেওয়া স্থগিত রাখা হয়েছে, যদিও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের দুই লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) জানিয়েছে, আহতদের তালিকায় ভুয়া নাম ঢোকার প্রমাণ তারা পেয়েছে। সংস্থার লিগ্যাল অ্যান্ড অপারেশন অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ রাকিনুল হাকিম বলেন, সরকারের যাচাই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তালিকা পুরোপুরি স্বচ্ছ না হলে ভবিষ্যতেও প্রশ্ন থেকেই যাবে।
ঢাকা ডেস্ক 









