জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন মাদারীপুরের শিবচরের তরুণ শাহাদাত হোসেন মিশন। বয়স মাত্র ৩০ হলেও জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ এখন থমকে গেছে। দীর্ঘ ১০ মাস চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফিরেছেন, তবে পায়ের গুরুতর জখমের কারণে আর আগের মতো হাঁটাচলা বা কাজ করতে পারছেন না। এখন একমাত্র দাবি—সরকার যেন তার মতো আহত আন্দোলনকারীদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে।
মিশনের বাড়ি শিবচরের শরুয়াইল ইউনিয়নের পূর্বকাকৈর গ্রামে। পল্লী চিকিৎসক বাবার বড় ছেলে তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি করতেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ। থাকতেন ঢাকার খিলবাড়ির টেক এলাকায়। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের ডাক তাকে ঘরে বসে থাকতে দেয়নি।
১৮ জুলাই কাজের জন্য চট্টগ্রামে ছিলেন মিশন। ফেসবুক দেখে ঢাকার আন্দোলনের খবর পান। সেদিন রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ১৯ জুলাই রামপুরায় আন্দোলনে যোগ দিয়ে প্রথম দিনই রাবার বুলেটে আহত হন। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে আবারও কাজে ফেরেন। তবে ৪ আগস্ট ভাগ্য তার প্রতি আর সহনশীল থাকেনি। তেজগাঁও-কারওয়ান বাজার এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নিলে পুলিশের গুলিতে তার বাঁ পায়ে দুটি বুলেট লাগে। মুহূর্তেই পা ভেঙে টুকরো হয়ে যায়।
আরও পড়ুন : জুলাই যোদ্ধাদের জন্য চাকরিতে কোটা থাকছে না
গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে বাবার সঙ্গে শেষ ফোনালাপে মিশন বলেছিলেন, “বাবা, আমার লাশ খুঁজতে আসবেন না। আমি জীবন দিয়ে হলেও রাজপথ ছাড়ব না।” সেই কথাই যেন আজও পরিবারের কানে বাজে। বাবা-মায়ের আক্ষেপ, সংসারের অন্যতম ভরসা আজ পঙ্গুত্বের শিকার।
আহত মিশন এখন ক্রাচে ভর করে কষ্ট করে হাঁটেন। বলেন, “মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, কিছু অনুদানও এসেছে। কিন্তু স্থায়ী চাকরি ছাড়া বাকি জীবন বেঁচে থাকা কঠিন। সরকার যেন আমাদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে।”
তার বাবা হুমায়ুন কবির খানও একই দাবি জানিয়ে বলেন, “আমার ছেলে পরিবারের অভিভাবক ছিল। এখন সে অক্ষম হয়ে গেছে। সরকার যদি চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়, তবেই তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে।”
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোসা. ইয়াসমিন আক্তার জানান, “জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। মিশনের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তার কর্মসংস্থানের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় থাকবে।”
সূত্র : বাসস
ঢাকা ডেস্ক 









