১১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলি হামলায় গাজায়  ১০০ সাংবাদিক নিহত

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
  • 138

গাজায় বর্বর ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১০০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও আনেকে। হামলার আগে গাজায় প্রায় ১০০০ সাংবাদিক নিয়োজিত ছিলেন।

এই হিসাবে মোট সংবাদকর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ মারা গেছেন এরই মধ্যে। এ এলাকাটি কার্যত এখন সাংবাদিকদের মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। খবর আলজাজিরা

গত অক্টোবরের শেষ দিকে আলজাজিরার সাংবাদিক ওয়ায়েল দাহদুহ যখন গাজা যুদ্ধ নিয়ে লাইভ করছিলেন, ঠিক সে সময়ই বর্বর ইসরায়েলিদের বিমান হামলায় তাঁর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও নাতি নিহত হন। এ খবরে কেঁদে উঠেছিল বিশ্ববিবেক।

সাংবাদিকদের বলা হয়, বিশ্বের চোখ ও কান। অথচ হামাস পরিচালিত গাজার মিডিয়া অফিস গত শনিবার বলেছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুহাম্মাদ আবু হায়েদি নিহত হয়েছেন। তিনি এ উপত্যকায় এবার নিহত ১০০তম সাংবাদিক। তবে গাজার কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত সংবাদকর্মীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

অবশ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) বলছে, গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৯ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। সিপিজে জানায়, আরও ১৫ জন আহত, কর্তব্যরত অবস্থায় তিনজন নিখোঁজ এবং ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : বিয়ে পর্যন্ত গিয়েও কেন ভেঙে গেল দেব-শুভশ্রীর সম্পর্ক

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি টিম ডসন আলজাজিরাকে বলেছেন, আমরা এই সংঘাতে যত সাংবাদিকের মৃত্যু দেখেছি, তা আর কোথাও ঘটেছে বলে আমি মনে করি না। ১০০ সাংবাদিকের মৃত্যু একটি অভূতপূর্ব সংখ্যা।

ডসন বলেন, গাজার সাংবাদিকদের শুধু ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও নোটবুক রয়েছে এবং এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুর সংখ্যা সত্ত্বেও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসরায়েল সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে কিনা– জানতে চাইলে ডসন বলেন, কিছু ফিলিস্তিনি সাংবাদিক তাঁকে বলেছেন, তারা হুমকিমূলক কল পেয়েছেন।

সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, তাদের বা তাদের পরিবারকে আগামী দিনে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে এসব কল এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন সিপিজে বলেছে, গাজায় সাংবাদিকদের হত্যার সংখ্যা ইতিহাসে ‘অতুলনীয়’। সংস্থাটি বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের এমন হারে হত্যা করছে, যার তুলনা আধুনিক ইতিহাসে নেই।

সিপিজে বিবৃতিতে বলেছে, এ যুদ্ধের প্রথম ১০ সপ্তাহে ক্ষুদ্র গাজায় যত সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, তা এ সময়ে বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি। অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যু ঘটেছে যুদ্ধের প্রথম মাসে।

এটি ১৯৯২ সালে সাংবাদিকদের মৃত্যুর রেকর্ড রাখা শুরু করার পর থেকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী একক মাসে পরিণত হয় গত অক্টোবর। সিপিজে একে ‘ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাংবাদিক ও তাদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করার একটি আপাত-ধরন’ বলে অভিহিত করেছে।

সাংবাদিকের আরেক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস গাজায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অভিযোগ করেছে।

প্যারিসভিত্তিক এ সংগঠনটির গত শুক্রবার দায়ের করা অভিযোগে হেগের এ আদালতকে ২২ অক্টোবর থেকে ১৫ ডিসেম্বর গাজায় নিহত সাত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের মৃত্যুর তদন্ত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে গাজায় যেসব সাংবাদিক বেঁচে আছেন, তাদের জীবনও এক বেদনাদায়ক আখ্যানে পরিণত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ইসরায়েলি হামলায় গাজায়  ১০০ সাংবাদিক নিহত

সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

গাজায় বর্বর ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১০০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও আনেকে। হামলার আগে গাজায় প্রায় ১০০০ সাংবাদিক নিয়োজিত ছিলেন।

এই হিসাবে মোট সংবাদকর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ মারা গেছেন এরই মধ্যে। এ এলাকাটি কার্যত এখন সাংবাদিকদের মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। খবর আলজাজিরা

গত অক্টোবরের শেষ দিকে আলজাজিরার সাংবাদিক ওয়ায়েল দাহদুহ যখন গাজা যুদ্ধ নিয়ে লাইভ করছিলেন, ঠিক সে সময়ই বর্বর ইসরায়েলিদের বিমান হামলায় তাঁর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও নাতি নিহত হন। এ খবরে কেঁদে উঠেছিল বিশ্ববিবেক।

সাংবাদিকদের বলা হয়, বিশ্বের চোখ ও কান। অথচ হামাস পরিচালিত গাজার মিডিয়া অফিস গত শনিবার বলেছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুহাম্মাদ আবু হায়েদি নিহত হয়েছেন। তিনি এ উপত্যকায় এবার নিহত ১০০তম সাংবাদিক। তবে গাজার কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত সংবাদকর্মীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

অবশ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) বলছে, গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৯ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। সিপিজে জানায়, আরও ১৫ জন আহত, কর্তব্যরত অবস্থায় তিনজন নিখোঁজ এবং ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : বিয়ে পর্যন্ত গিয়েও কেন ভেঙে গেল দেব-শুভশ্রীর সম্পর্ক

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি টিম ডসন আলজাজিরাকে বলেছেন, আমরা এই সংঘাতে যত সাংবাদিকের মৃত্যু দেখেছি, তা আর কোথাও ঘটেছে বলে আমি মনে করি না। ১০০ সাংবাদিকের মৃত্যু একটি অভূতপূর্ব সংখ্যা।

ডসন বলেন, গাজার সাংবাদিকদের শুধু ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও নোটবুক রয়েছে এবং এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুর সংখ্যা সত্ত্বেও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসরায়েল সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে কিনা– জানতে চাইলে ডসন বলেন, কিছু ফিলিস্তিনি সাংবাদিক তাঁকে বলেছেন, তারা হুমকিমূলক কল পেয়েছেন।

সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, তাদের বা তাদের পরিবারকে আগামী দিনে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে এসব কল এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন সিপিজে বলেছে, গাজায় সাংবাদিকদের হত্যার সংখ্যা ইতিহাসে ‘অতুলনীয়’। সংস্থাটি বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের এমন হারে হত্যা করছে, যার তুলনা আধুনিক ইতিহাসে নেই।

সিপিজে বিবৃতিতে বলেছে, এ যুদ্ধের প্রথম ১০ সপ্তাহে ক্ষুদ্র গাজায় যত সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, তা এ সময়ে বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি। অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যু ঘটেছে যুদ্ধের প্রথম মাসে।

এটি ১৯৯২ সালে সাংবাদিকদের মৃত্যুর রেকর্ড রাখা শুরু করার পর থেকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী একক মাসে পরিণত হয় গত অক্টোবর। সিপিজে একে ‘ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাংবাদিক ও তাদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করার একটি আপাত-ধরন’ বলে অভিহিত করেছে।

সাংবাদিকের আরেক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস গাজায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অভিযোগ করেছে।

প্যারিসভিত্তিক এ সংগঠনটির গত শুক্রবার দায়ের করা অভিযোগে হেগের এ আদালতকে ২২ অক্টোবর থেকে ১৫ ডিসেম্বর গাজায় নিহত সাত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের মৃত্যুর তদন্ত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে গাজায় যেসব সাংবাদিক বেঁচে আছেন, তাদের জীবনও এক বেদনাদায়ক আখ্যানে পরিণত হয়েছে।