নড়াইলের লোহাগড়ায় এক নারীকে গোপনে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখার সময় ধরা পড়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন সবুজ শেখ (৩৫) নামে এক যুবক। নিহতের নাম সোয়েবুর রহমান খান (৪৬)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সবুজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে সোয়েবুর রহমান বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরদিন শুক্রবার দুপুরে মাইটকুমড়া গ্রামের এক পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠায়।
রোববার (১০ আগস্ট) রাতে লোহাগড়া থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকারীকে শনাক্ত করে ওই দিন বিকেলে কালনা গ্রাম থেকে সবুজ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ হত্যার কথা স্বীকার করেন।
আরও পড়ুন : পাটক্ষেতে মিলল মানুষের কঙ্কাল, পাশে নারীর পোশাক
সবুজ জানান, ‘আমি এক নারীকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখছিলাম। তখন সোয়েব আমাকে দেখে ফেলে। আমি ক্ষমা চেয়ে বলেছিলাম কাউকে যেন না বলে, কিন্তু সে গ্রামে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। তাই রাগে গলা টিপে হত্যা করি, পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে পুকুরে কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে রাখি।’
তদন্তে জানা যায়, হত্যার পর সবুজ নিহতের মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছাটি পরে আগুনে পুড়িয়ে নদীতে ফেলে দেন।
নিহতের স্ত্রী রিক্তা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, সে-ই বৃষ্টির মধ্যে কবর খুঁড়েছে, লাশ মাটিতে দিয়েছে—ভাবতেও কষ্ট হয়। যদি অন্য কেউ জড়িত থাকে, আমরা চাই সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে রোববার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার সবুজকে সোমবার আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা ডেস্ক 









