প্রতি বছরের শুরুতে নতুন সংকল্প নেওয়ার সময় অনেকেই বলেন— ‘আমি আরও বেশি বই পড়তে চাই।’ সুখ ও ইতিবাচক জীবনযাপনের গবেষক ও লেখক গ্রেচেন রুবিন জানিয়েছেন, এটি একদমই স্বাভাবিক। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়া মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, সহমর্মিতা বাড়ায়, চাপ কমায়, স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করে এবং অনিশ্চয়তা সহ্য করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এমনকি একটি গবেষণা বলছে— বই পড়া আমাদের আয়ু পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
তবে গ্রেচেনের কাছে বই পড়ার মূল প্রেরণা স্বাস্থ্য নয়, বরং আনন্দ। তিনি জানান, অনেক সময় কাজ ফেলে উপন্যাস শেষ করেছেন, প্রিয় বইয়ের একাধিক কপি বন্ধুদের উপহার দিয়েছেন, এমনকি একই বই দশবার পড়ে নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন।
তিনি বই পড়তে ইচ্ছুকদের জন্য দিয়েছেন একটি নতুন চ্যালেঞ্জ— “২৫ এ ২৫ পড়” অর্থাৎ, সারা বছর প্রতিদিন অন্তত ২৫ মিনিট পড়া। অডিওবুক শোনাও এর মধ্যে গণ্য হবে।
আরও পড়ুন : দুধের সঙ্গে ভুলেও খাবেন না যে ৬ খাবার
গ্রেচেনের মতে, প্রতিদিন একটি কাজ করলে তা সহজে অভ্যাসে পরিণত হয়। যেমন দাঁত ব্রাশ করার মতো, পড়া যদি দৈনন্দিন রুটিনে ঢুকে যায়, তাহলে আর ‘আজ পড়ব কি কাল?’— এমন দ্বিধা থাকে না। ২৫ মিনিটের প্রতিদিনের পড়া বছরে জমে দাঁড়ায় প্রায় ১৫২ ঘণ্টা— যা দিয়ে অনেক বই পড়া সম্ভব।
তিনি নিয়মিত পড়ার জন্য কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন—
- বিরক্তিকর বই পড়া বন্ধ করুন; জীবন ছোট, ভালো বই অনেক।
- সবসময় হাতে বা কাছে পড়ার মতো কিছু রাখুন।
- লাইব্রেরি ব্যবহার করুন— এটি বিনামূল্যে।
- বুকস্টোর ঘুরে নতুন বইয়ের ধারণা নিন।
- অপেক্ষার সময় কাজে লাগান— যেমন দাঁতের ডাক্তার বা লাইন ধরে থাকার সময়।
- যা পড়তে ইচ্ছে করে, তাই পড়ুন; বাধ্যবাধকতার বই নয়।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট না করে বই পড়ায় মন দিন।
গ্রেচেন রুবিন মনে করেন, ‘যা যে কোনো সময় করা যায়, তা অনেক সময় কোনো সময়ই করা হয় না।’ তাই প্রতিদিন ২৫ মিনিট পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললেই তা জীবনকে আনন্দময় ও সমৃদ্ধ করবে।
ঢাকা ডেস্ক 















