১২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আ.লীগ কর্মী আসায় দুধ দিয়ে ধোয়া হলো বিএনপি কার্যালয়

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
  • 157

রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তেজনার পারদ চড়ছে, তখন গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিক্রিয়া। আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীরা পুরো দলীয় কার্যালয় এক মণ দুধ দিয়ে ধুয়ে দেন। তাদের ভাষায়, এটি ছিল ‘প্রতীকী শুদ্ধি অভিযান’।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে। এর নেতৃত্ব দেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম তুহিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বালতিভর্তি দুধ এনে অফিসের বারান্দা, সিঁড়ি ও প্রবেশপথ ধুয়ে পরিষ্কার করছেন। সঙ্গে চলছে প্রতিবাদী স্লোগান ও বক্তৃতা।

আরও পড়ুন : এনসিপির লুকোচুরি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে: রিজভী 

ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় মিছিল শেষে বিএনপির একটি অংশ আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দাবি করেন, এটি ছিল শুধুই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ নয়—গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেও অপমান করা হয়েছে।

তাদের মতে, বিএনপি কার্যালয়ে ‘ফ্যাসিবাদের প্রতিনিধিদের’ প্রবেশ দলের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর এই অপবিত্রতা দূর করতেই তারা ‘শুদ্ধিকরণ’ কর্মসূচি হিসেবে দুধ দিয়ে ধোয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা তৌহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন,“গণঅভ্যুত্থান দিবসের মতো গৌরবোজ্জ্বল দিনে যারা আওয়ামী লীগের এজেন্টদের নিয়ে পার্টি অফিসে প্রবেশ করেছে, তারা চেতনাকে কলুষিত করেছে। এটাই ছিল আমাদের বার্তা— এই কার্যালয়ে আর কোনো ফ্যাসিবাদী চেতনার স্থান নেই।”

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল জানান,“এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দলীয় কার্যালয় হলো আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতীক। সেখানকার পবিত্রতা রক্ষা করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি দলীয় শৃঙ্খলার ভেতর থেকেই সবকিছু হওয়া উচিত। তরুণদের দায়বদ্ধতা প্রশংসনীয়, তবে ঐক্য ও শৃঙ্খলার বিষয়টি সর্বাগ্রে রাখতে হবে।”

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কেউ কেউ এই ‘দুধ ধোয়া’ কর্মসূচিকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকে একে ‘রাজনীতির নামে নাটক’ বলেও মন্তব্য করছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

আ.লীগ কর্মী আসায় দুধ দিয়ে ধোয়া হলো বিএনপি কার্যালয়

সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন উত্তেজনার পারদ চড়ছে, তখন গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিক্রিয়া। আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীরা পুরো দলীয় কার্যালয় এক মণ দুধ দিয়ে ধুয়ে দেন। তাদের ভাষায়, এটি ছিল ‘প্রতীকী শুদ্ধি অভিযান’।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে। এর নেতৃত্ব দেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম তুহিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বালতিভর্তি দুধ এনে অফিসের বারান্দা, সিঁড়ি ও প্রবেশপথ ধুয়ে পরিষ্কার করছেন। সঙ্গে চলছে প্রতিবাদী স্লোগান ও বক্তৃতা।

আরও পড়ুন : এনসিপির লুকোচুরি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে: রিজভী 

ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত বিজয় মিছিল শেষে বিএনপির একটি অংশ আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দাবি করেন, এটি ছিল শুধুই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ নয়—গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেও অপমান করা হয়েছে।

তাদের মতে, বিএনপি কার্যালয়ে ‘ফ্যাসিবাদের প্রতিনিধিদের’ প্রবেশ দলের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর এই অপবিত্রতা দূর করতেই তারা ‘শুদ্ধিকরণ’ কর্মসূচি হিসেবে দুধ দিয়ে ধোয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা তৌহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন,“গণঅভ্যুত্থান দিবসের মতো গৌরবোজ্জ্বল দিনে যারা আওয়ামী লীগের এজেন্টদের নিয়ে পার্টি অফিসে প্রবেশ করেছে, তারা চেতনাকে কলুষিত করেছে। এটাই ছিল আমাদের বার্তা— এই কার্যালয়ে আর কোনো ফ্যাসিবাদী চেতনার স্থান নেই।”

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল জানান,“এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দলীয় কার্যালয় হলো আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতীক। সেখানকার পবিত্রতা রক্ষা করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি দলীয় শৃঙ্খলার ভেতর থেকেই সবকিছু হওয়া উচিত। তরুণদের দায়বদ্ধতা প্রশংসনীয়, তবে ঐক্য ও শৃঙ্খলার বিষয়টি সর্বাগ্রে রাখতে হবে।”

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কেউ কেউ এই ‘দুধ ধোয়া’ কর্মসূচিকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকে একে ‘রাজনীতির নামে নাটক’ বলেও মন্তব্য করছেন।