১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কফি না চা: কোনটি বেশি উপকারী স্বাস্থ্যের জন্য?

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
  • 74

চা ও কফি—দুই জনপ্রিয় পানীয়ই সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। এই দুই পানীয় ছাড়া অনেকে নিজের দিনের শুরু কল্পনাই করতে পারেননা। তবে প্রশ্ন থেকে যায়: আমাদের জন্য কোনটি বেশি উপকারী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয় পানীয়তেই রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগ, যা ক্যানসার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাণ্ডার

কফিতে পাওয়া যায় ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, যা প্রদাহ কমায় এবং ডায়াবেটিস, লিভার রোগে সহায়তা করে। অন্যদিকে, চায়ে থাকা ইজিসিজি ও ফ্ল্যাভোনল যেমন কোয়ারসেটিন ও মাইরিসেটিন ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন : মিনি স্ট্রোকের এই ৫টি লক্ষণ মিস করলে হতে পারে বড় বিপদ

দীর্ঘজীবনের সঙ্গী হতে পারে

২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ২ কাপ চা ও ২ কাপ কফি পান করলে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি ২১% কমে যায়। এমনকি দিনে ৩ কাপ চা ও ৪ কাপ কফি পানকারীদের হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি ২৪% কম।

কফির বিশেষ গুণ

কফি লিভারকে সুরক্ষা দেয়। এটি খেলাধুলায় পারফরম্যান্স বাড়াতেও সহায়ক। তবে এতে ক্যাফেইনের মাত্রা বেশি হওয়ায় বেশি পরিমাণে পান করলে উদ্বেগ, অনিদ্রা, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

চায়ের বিশেষত্ব

চা—বিশেষ করে গ্রিন টি—মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক। এতে থাকা এল-থিয়ানিন উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর। নিয়মিত চা পান করলে বিষণ্ণতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

সতর্কতা ও পরামর্শ

প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ৪০০ মি.গ্রা. এবং গর্ভবতীদের জন্য ২০০ মি.গ্রা.র কম ক্যাফেইন গ্রহণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। চা-কফি ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরম পান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চা ও কফি—দুটিই স্বাস্থ্যকর, তবে পরিমিত পরিমাণে। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে দুটিরই স্থান থাকলে মিলতে পারে সর্বোচ্চ উপকার।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

কফি না চা: কোনটি বেশি উপকারী স্বাস্থ্যের জন্য?

সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

চা ও কফি—দুই জনপ্রিয় পানীয়ই সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। এই দুই পানীয় ছাড়া অনেকে নিজের দিনের শুরু কল্পনাই করতে পারেননা। তবে প্রশ্ন থেকে যায়: আমাদের জন্য কোনটি বেশি উপকারী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয় পানীয়তেই রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগ, যা ক্যানসার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাণ্ডার

কফিতে পাওয়া যায় ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, যা প্রদাহ কমায় এবং ডায়াবেটিস, লিভার রোগে সহায়তা করে। অন্যদিকে, চায়ে থাকা ইজিসিজি ও ফ্ল্যাভোনল যেমন কোয়ারসেটিন ও মাইরিসেটিন ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন : মিনি স্ট্রোকের এই ৫টি লক্ষণ মিস করলে হতে পারে বড় বিপদ

দীর্ঘজীবনের সঙ্গী হতে পারে

২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ২ কাপ চা ও ২ কাপ কফি পান করলে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি ২১% কমে যায়। এমনকি দিনে ৩ কাপ চা ও ৪ কাপ কফি পানকারীদের হৃদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি ২৪% কম।

কফির বিশেষ গুণ

কফি লিভারকে সুরক্ষা দেয়। এটি খেলাধুলায় পারফরম্যান্স বাড়াতেও সহায়ক। তবে এতে ক্যাফেইনের মাত্রা বেশি হওয়ায় বেশি পরিমাণে পান করলে উদ্বেগ, অনিদ্রা, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

চায়ের বিশেষত্ব

চা—বিশেষ করে গ্রিন টি—মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক। এতে থাকা এল-থিয়ানিন উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর। নিয়মিত চা পান করলে বিষণ্ণতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

সতর্কতা ও পরামর্শ

প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ৪০০ মি.গ্রা. এবং গর্ভবতীদের জন্য ২০০ মি.গ্রা.র কম ক্যাফেইন গ্রহণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। চা-কফি ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরম পান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চা ও কফি—দুটিই স্বাস্থ্যকর, তবে পরিমিত পরিমাণে। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে দুটিরই স্থান থাকলে মিলতে পারে সর্বোচ্চ উপকার।