০২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বন্ধুকে অণ্ডকোষ চেপে হত্যা, অতপর…

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • 93

ছবি : সংগৃহীত

চাঁদপুরে মতলব উত্তর থানার সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের গোপালকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি পুকুর থেকে গত ১১ জুলাই উদ্ধার করা হয় হাবিবউল্লাহ নামে এক ব্যক্তির মরদেহ।

এই ঘটনার ২১ ঘণ্টার মধ্যে আজ রোববার (১৩ জুলাই) অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আটক করা হয় অভিযুক্ত কামাল মিরাকে।

মূলত বিয়ে করা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে এই হত্যাকাণ্ড।

পুলিশের হাতে আটক কামাল মিয়া স্বীকার করে বলেন, হাবিবউল্লাহ দুই দফায় তার কাছ থেকে মোট ১০ হাজার টাকা নেন। তাকে বিয়ে করাবে বলে টাকা নেয় হাবিব।

পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে মতলব উত্তরে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান হাবিবউল্লাহ। কিন্তু কনে না দেখিয়ে টালবাহানা করেন।

একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে হাবিবউল্লাহ কামাল মিরার হাতের আঙুল কামড়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবউল্লাহর অণ্ডকোষ চেপে ধরেন তিনি।

একপর্যায়ে মৃত্যু হলে পুকুরের পানিতে মরদেহ ফেলে গা ঢাকা দেয় কামাল মিরা।

পেশায় নারায়ণগঞ্জের একটি ছাপাখানার কর্মচারী কামাল মিরার বাড়ি বরিশালের চরমোনাইয়ের রাজারচর গ্রামে। তার বাবার নাম খালেক মিরা (৫৬)।

আর ঘটনার শিকার হাবিবউল্লাহর (৫০) বাড়ি নারায়ণগঞ্জের পূর্ব মদনপুরে। পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন তিনি।

তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

রোববার দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গণমাধ্যমের বলেন, পুকুরে ভাসমান মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হলেও পরে সেখানে থাকা একটি মুঠোফোনের সূত্র ধরেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে।

আরও পড়ুন : ঝালমুড়ির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, অতঃপর…

পুলিশ সুপার বলেন, কামাল মিরার প্রথম স্ত্রী চলে যান। তারপর দ্বিতীয় বিয়ের জন্য ঘটক ধরেন হাবিবউল্লাহকে। এতে কনে খুঁজে দেওয়ার জন্য প্রথমে ৬ হাজার এবং পরে আরো ৪ হাজার টাকা নেন হাবিবউল্লাহ।

একপর্যায়ে মতলব উত্তরে তার শ্বশুর বাড়িতে কনে পাওয়া গেছে। এমন কথা বলে নারায়ণগঞ্জ থেকে কামাল মিরাকে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যান হাবিবউল্লাহ।

কিন্তু সেখানে কনে না দেখতে পেয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়। পরে হাতাহাতি এবং মারামারি হয়। একপর্যায়ে হাবিবউল্লাহ কামাল মিরার হাতের আঙুল কামড়ে দেয়। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কামাল মিরা হাবিবউল্লাহর অণ্ডকোষ চেপে ধরেন। এতে মৃত্যু হয় হাবিবউল্লাহর।

এদিকে, আসামি কামাল মিরাকে দুপুরে চাঁদপুরের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন কামাল মিরা। পরে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয় তাকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বন্ধুকে অণ্ডকোষ চেপে হত্যা, অতপর…

সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

চাঁদপুরে মতলব উত্তর থানার সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের গোপালকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি পুকুর থেকে গত ১১ জুলাই উদ্ধার করা হয় হাবিবউল্লাহ নামে এক ব্যক্তির মরদেহ।

এই ঘটনার ২১ ঘণ্টার মধ্যে আজ রোববার (১৩ জুলাই) অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আটক করা হয় অভিযুক্ত কামাল মিরাকে।

মূলত বিয়ে করা নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে এই হত্যাকাণ্ড।

পুলিশের হাতে আটক কামাল মিয়া স্বীকার করে বলেন, হাবিবউল্লাহ দুই দফায় তার কাছ থেকে মোট ১০ হাজার টাকা নেন। তাকে বিয়ে করাবে বলে টাকা নেয় হাবিব।

পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরে মতলব উত্তরে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান হাবিবউল্লাহ। কিন্তু কনে না দেখিয়ে টালবাহানা করেন।

একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে হাবিবউল্লাহ কামাল মিরার হাতের আঙুল কামড়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবউল্লাহর অণ্ডকোষ চেপে ধরেন তিনি।

একপর্যায়ে মৃত্যু হলে পুকুরের পানিতে মরদেহ ফেলে গা ঢাকা দেয় কামাল মিরা।

পেশায় নারায়ণগঞ্জের একটি ছাপাখানার কর্মচারী কামাল মিরার বাড়ি বরিশালের চরমোনাইয়ের রাজারচর গ্রামে। তার বাবার নাম খালেক মিরা (৫৬)।

আর ঘটনার শিকার হাবিবউল্লাহর (৫০) বাড়ি নারায়ণগঞ্জের পূর্ব মদনপুরে। পেশায় অটোরিকশা চালক ছিলেন তিনি।

তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

রোববার দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব গণমাধ্যমের বলেন, পুকুরে ভাসমান মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হলেও পরে সেখানে থাকা একটি মুঠোফোনের সূত্র ধরেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে।

আরও পড়ুন : ঝালমুড়ির সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, অতঃপর…

পুলিশ সুপার বলেন, কামাল মিরার প্রথম স্ত্রী চলে যান। তারপর দ্বিতীয় বিয়ের জন্য ঘটক ধরেন হাবিবউল্লাহকে। এতে কনে খুঁজে দেওয়ার জন্য প্রথমে ৬ হাজার এবং পরে আরো ৪ হাজার টাকা নেন হাবিবউল্লাহ।

একপর্যায়ে মতলব উত্তরে তার শ্বশুর বাড়িতে কনে পাওয়া গেছে। এমন কথা বলে নারায়ণগঞ্জ থেকে কামাল মিরাকে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যান হাবিবউল্লাহ।

কিন্তু সেখানে কনে না দেখতে পেয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়। পরে হাতাহাতি এবং মারামারি হয়। একপর্যায়ে হাবিবউল্লাহ কামাল মিরার হাতের আঙুল কামড়ে দেয়। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কামাল মিরা হাবিবউল্লাহর অণ্ডকোষ চেপে ধরেন। এতে মৃত্যু হয় হাবিবউল্লাহর।

এদিকে, আসামি কামাল মিরাকে দুপুরে চাঁদপুরের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন কামাল মিরা। পরে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয় তাকে।