১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শিশু হাসপাতালে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পেলেন ৬৫ চিকিৎসক

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • 108

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা ছাড়াই ৬৫ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা ও তদন্ত। এসব নিয়োগে কোনো সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি, বরং হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল নিয়োগসংক্রান্ত ঘোষণা।

২৯ জুন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. মাহবুবুল হক অ্যাডহক ভিত্তিতে এই নিয়োগের প্রস্তাবনা তৈরি করেন, যা অনুমোদন দেন পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সবাই বিএনপি-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবের সদস্য। যদিও কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অগ্রাধিকার দিয়েই নিয়োগ হয়েছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শুধু হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে ১ জুন প্রদর্শিত হয়, যেখানে ৩৫ বছরের নিচে বয়সসীমার মধ্যে থাকা যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসকদের আবেদন আহ্বান করা হয়। তবে জানা গেছে, আবেদনকারীদের প্রায় সবাই শিশু হাসপাতালের ভেতরের প্রশিক্ষণরত চিকিৎসক। বাইরের কোনো চিকিৎসক বা অন্য হাসপাতালের প্রশিক্ষণার্থী এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না এবং কেউ আবেদনও করেননি।

আরও পড়ুন : চাঁদপুরে হামলার শিকার সেই খতিব কি মারা গেছেন?

চিকিৎসক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত-সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন এনডিএফ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। তাদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য চাকরিপ্রত্যাশী চিকিৎসকদের এ বিষয়ে অবগত না রেখে স্বল্প পরিসরে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই নিয়োগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ১০ জুলাই তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা ১৩ জুলাই শিশু হাসপাতালে গিয়ে অনুসন্ধান করবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর চূড়ান্তভাবে বোঝা যাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ হয়েছে কি না।

পরিচালনা বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নিয়োগ ছিল ছয় মাস মেয়াদি এবং তা হাসপাতালের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য করা হয়েছে, তাই পরীক্ষা গ্রহণের প্রয়োজন মনে করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা ও সুযোগের সমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা ও তদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র : প্রথম আলো

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

শিশু হাসপাতালে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পেলেন ৬৫ চিকিৎসক

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা ছাড়াই ৬৫ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা ও তদন্ত। এসব নিয়োগে কোনো সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি, বরং হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল নিয়োগসংক্রান্ত ঘোষণা।

২৯ জুন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. মাহবুবুল হক অ্যাডহক ভিত্তিতে এই নিয়োগের প্রস্তাবনা তৈরি করেন, যা অনুমোদন দেন পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সবাই বিএনপি-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবের সদস্য। যদিও কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অগ্রাধিকার দিয়েই নিয়োগ হয়েছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শুধু হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে ১ জুন প্রদর্শিত হয়, যেখানে ৩৫ বছরের নিচে বয়সসীমার মধ্যে থাকা যোগ্যতাসম্পন্ন চিকিৎসকদের আবেদন আহ্বান করা হয়। তবে জানা গেছে, আবেদনকারীদের প্রায় সবাই শিশু হাসপাতালের ভেতরের প্রশিক্ষণরত চিকিৎসক। বাইরের কোনো চিকিৎসক বা অন্য হাসপাতালের প্রশিক্ষণার্থী এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না এবং কেউ আবেদনও করেননি।

আরও পড়ুন : চাঁদপুরে হামলার শিকার সেই খতিব কি মারা গেছেন?

চিকিৎসক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত-সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন এনডিএফ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। তাদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য চাকরিপ্রত্যাশী চিকিৎসকদের এ বিষয়ে অবগত না রেখে স্বল্প পরিসরে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই নিয়োগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ১০ জুলাই তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা ১৩ জুলাই শিশু হাসপাতালে গিয়ে অনুসন্ধান করবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর চূড়ান্তভাবে বোঝা যাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ হয়েছে কি না।

পরিচালনা বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নিয়োগ ছিল ছয় মাস মেয়াদি এবং তা হাসপাতালের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য করা হয়েছে, তাই পরীক্ষা গ্রহণের প্রয়োজন মনে করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা ও সুযোগের সমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা ও তদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র : প্রথম আলো