১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

নারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বলার নির্দেশনা বাতিল

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • 72

সরকারি নারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ সম্বোধনের বিতর্কিত বাধ্যবাধকতা বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একইসঙ্গে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে জারি হওয়া প্রটোকল নির্দেশনাগুলো পর্যালোচনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি বার্তায় জানানো হয়, আগের সরকারের সময় নারী মন্ত্রী, সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক ছিল, যা সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে ‘বেমানান ও অস্বস্তিকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আগের সরকারের সময়ে জারি করা এক প্রটোকল নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, নারী হোন বা পুরুষ, সব উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বলেই সম্বোধন করতে হবে। এতে নারী কর্মকর্তাদের আলাদা পরিচয় ও মর্যাদায় আঘাত লাগছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন প্রশাসন সংশ্লিষ্ট ও মানবাধিকারকর্মীরা।

আরও পড়ুন : গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট বন্ধ

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রটোকল নির্দেশনা ও সম্বোধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সুপারিশ করতে একটি কমিটি গঠন করা হবে।

এই কমিটির নেতৃত্বে আছেন উপদেষ্টা ফওজুল কবির ও পরিবেশবাদী আইনজীবী ও উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি এক বার্তায় বলা হয়, শেখ হাসিনার আমলে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ‘অদ্ভুত ও বিতর্কিত’ প্রটোকল নির্দেশনা ছিল। প্রটোকল অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ নারী মন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ সম্বোধন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। এখনো অনেক স্থানে নারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বলা হচ্ছে, যা সামাজিক-প্রশাসনিকভাবে স্পষ্টতই ‘বেমানান ও অস্বস্তিকর’।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রশাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য রক্ষায় নানামুখী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রটোকল ও দাপ্তরিক রীতিনীতির জটিলতা দূর করার পদক্ষেপও গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

নারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বলার নির্দেশনা বাতিল

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

সরকারি নারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ সম্বোধনের বিতর্কিত বাধ্যবাধকতা বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একইসঙ্গে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে জারি হওয়া প্রটোকল নির্দেশনাগুলো পর্যালোচনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি বার্তায় জানানো হয়, আগের সরকারের সময় নারী মন্ত্রী, সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক ছিল, যা সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে ‘বেমানান ও অস্বস্তিকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আগের সরকারের সময়ে জারি করা এক প্রটোকল নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, নারী হোন বা পুরুষ, সব উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বলেই সম্বোধন করতে হবে। এতে নারী কর্মকর্তাদের আলাদা পরিচয় ও মর্যাদায় আঘাত লাগছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন প্রশাসন সংশ্লিষ্ট ও মানবাধিকারকর্মীরা।

আরও পড়ুন : গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট বন্ধ

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রটোকল নির্দেশনা ও সম্বোধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সুপারিশ করতে একটি কমিটি গঠন করা হবে।

এই কমিটির নেতৃত্বে আছেন উপদেষ্টা ফওজুল কবির ও পরিবেশবাদী আইনজীবী ও উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি এক বার্তায় বলা হয়, শেখ হাসিনার আমলে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ‘অদ্ভুত ও বিতর্কিত’ প্রটোকল নির্দেশনা ছিল। প্রটোকল অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ নারী মন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ সম্বোধন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। এখনো অনেক স্থানে নারী কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বলা হচ্ছে, যা সামাজিক-প্রশাসনিকভাবে স্পষ্টতই ‘বেমানান ও অস্বস্তিকর’।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রশাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য রক্ষায় নানামুখী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রটোকল ও দাপ্তরিক রীতিনীতির জটিলতা দূর করার পদক্ষেপও গ্রহণ করা হচ্ছে।