০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

যে গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে মেসি

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • 82

বিশ্বকাপের মঞ্চে কিছু রাত শুধু ফলাফল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কিছু রাত একজন মানুষকে ঘিরে তৈরি হয়, একটি দেশের আত্মবিশ্বাসকে নতুন করে সংজ্ঞা দেয়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ছিল ঠিক তেমনই এক রাত যেখানে স্কোরলাইন বলেছে একটি গল্প, আর মাঠ বলেছে আরেকটি। সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি।

হ্যাটট্রিক সংখ্যাটা সহজ। কিন্তু প্রতিটি গোলের ভেতরে ছিল শ্রেষ্ঠত্ব, যা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ফুটবলকে মুগ্ধ করে এসেছে। কখনও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে, কখনও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে, কখনও আবার আক্রমণের পুরো ছন্দ তৈরি করে ম্যাচটিকে নিজের করে নিয়েছেন মেসি। যেন বল তার পায়ে গেলে খেলার নিয়ম কিছু সময়ের জন্য বদলে যায়।

ফুটবল ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড় আছেন, যাদের নাম একটি দেশের পরিচয়ের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায়। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে সেই নাম মেসি। এই সম্পর্ক কেবল জনপ্রিয়তার নয়, প্রভাবেরও। কারণ মাঠে মেসি থাকলে আর্জেন্টিনা শুধু একটি দল থাকে না,তারা হয়ে ওঠে আরও আত্মবিশ্বাসী, আরও ধৈর্যশীল, আরও বিশ্বাসী।

মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি, খেলার ভেতরের জায়গাগুলো দেখতে পান অন্যদের আগেই। কোথায় ফাঁক তৈরি হবে, কখন গতি বাড়াতে হবে, কোন পাসে রক্ষণ ভাঙবে সব তার স্বভাবজাত। তাই তিনি শুধু গোলদাতা নন, আক্রমণের সেনাপতিও।

আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটিও আলাদা করে উল্লেখ করার মতো। বিশ্বকাপজয়ী দলের বড় একটি অংশ এখনও একসঙ্গে আছে। কোচ দলটিকে এমনভাবে তৈরি করেছেন, যেখানে তারকা নির্ভরতার সঙ্গে দলগত ভারসাম্যেরও সমান গুরুত্ব রয়েছে। আগের বিশ্বকাপজয়ী দলের ১৬ জন সদস্য এবারও স্কোয়াডে আছেন। অভিজ্ঞতা আর পরিণত মানসিকতা দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বড় টুর্নামেন্টে তারকা ফুটবলারদের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ নতুন কিছু নয়। মেসিও তার বাইরে নন। বয়সের সঙ্গে তার খেলার ধরন বদলেছে, কিন্তু গুরুত্ব কমেনি। ফলে ইচ্ছাকৃত বা অতিরিক্ত কঠোর ট্যাকল শুধু একটি খেলোয়াড়কে নয়, পুরো টুর্নামেন্টের সৌন্দর্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সেই জায়গা থেকে রেফারিদের দায়িত্বও বড়। প্রতিযোগিতা থাকবে, শক্ত লড়াই থাকবে, কিন্তু বিপজ্জনক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ট্যাকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। আধুনিক ফুটবল এখন শুধু কৌশল আর প্রযুক্তির নয়, খেলোয়াড়দের সুরক্ষারও খেলা। আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আলোচনা যখনই হবে, আলো এসে পড়বে মেসির ওপরই।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

যে গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে মেসি

সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে কিছু রাত শুধু ফলাফল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। কিছু রাত একজন মানুষকে ঘিরে তৈরি হয়, একটি দেশের আত্মবিশ্বাসকে নতুন করে সংজ্ঞা দেয়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ছিল ঠিক তেমনই এক রাত যেখানে স্কোরলাইন বলেছে একটি গল্প, আর মাঠ বলেছে আরেকটি। সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি।

হ্যাটট্রিক সংখ্যাটা সহজ। কিন্তু প্রতিটি গোলের ভেতরে ছিল শ্রেষ্ঠত্ব, যা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ফুটবলকে মুগ্ধ করে এসেছে। কখনও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে, কখনও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে, কখনও আবার আক্রমণের পুরো ছন্দ তৈরি করে ম্যাচটিকে নিজের করে নিয়েছেন মেসি। যেন বল তার পায়ে গেলে খেলার নিয়ম কিছু সময়ের জন্য বদলে যায়।

ফুটবল ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড় আছেন, যাদের নাম একটি দেশের পরিচয়ের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যায়। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে সেই নাম মেসি। এই সম্পর্ক কেবল জনপ্রিয়তার নয়, প্রভাবেরও। কারণ মাঠে মেসি থাকলে আর্জেন্টিনা শুধু একটি দল থাকে না,তারা হয়ে ওঠে আরও আত্মবিশ্বাসী, আরও ধৈর্যশীল, আরও বিশ্বাসী।

মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি, খেলার ভেতরের জায়গাগুলো দেখতে পান অন্যদের আগেই। কোথায় ফাঁক তৈরি হবে, কখন গতি বাড়াতে হবে, কোন পাসে রক্ষণ ভাঙবে সব তার স্বভাবজাত। তাই তিনি শুধু গোলদাতা নন, আক্রমণের সেনাপতিও।

আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটিও আলাদা করে উল্লেখ করার মতো। বিশ্বকাপজয়ী দলের বড় একটি অংশ এখনও একসঙ্গে আছে। কোচ দলটিকে এমনভাবে তৈরি করেছেন, যেখানে তারকা নির্ভরতার সঙ্গে দলগত ভারসাম্যেরও সমান গুরুত্ব রয়েছে। আগের বিশ্বকাপজয়ী দলের ১৬ জন সদস্য এবারও স্কোয়াডে আছেন। অভিজ্ঞতা আর পরিণত মানসিকতা দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বড় টুর্নামেন্টে তারকা ফুটবলারদের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ নতুন কিছু নয়। মেসিও তার বাইরে নন। বয়সের সঙ্গে তার খেলার ধরন বদলেছে, কিন্তু গুরুত্ব কমেনি। ফলে ইচ্ছাকৃত বা অতিরিক্ত কঠোর ট্যাকল শুধু একটি খেলোয়াড়কে নয়, পুরো টুর্নামেন্টের সৌন্দর্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সেই জায়গা থেকে রেফারিদের দায়িত্বও বড়। প্রতিযোগিতা থাকবে, শক্ত লড়াই থাকবে, কিন্তু বিপজ্জনক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ট্যাকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। আধুনিক ফুটবল এখন শুধু কৌশল আর প্রযুক্তির নয়, খেলোয়াড়দের সুরক্ষারও খেলা। আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আলোচনা যখনই হবে, আলো এসে পড়বে মেসির ওপরই।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর