১১:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় ঝিনাইগাতীতে থমথমে পরিস্থিতি

  • রিপোর্টার
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • 70

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহতের ঘটনায় পুরো উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে ঝিনাইগাতী এলাকাজুড়ে সুনসান নীরবতা দেখা গেছে। রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি খুবই কম, বন্ধ রয়েছে উপজেলা সদর বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট।

নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। তার মরদেহ এখনো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেখানে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে হয়েছে, মরদেহ শেরপুরের শ্রীবরদীতে নেওয়া হবে। এরপর বিকেল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, বিকেল ৫টায় শ্রীবরদী কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা এবং রাত সাড়ে ৮টায় গোপালখিলা স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বুধবারের ঘটনায় ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

জেলা জামায়াতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিহত রেজাউল করিমের জানাজায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন। এ ছাড়া, জানাজা থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াতের মনোনীত এমপি প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।

এর আগে, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে ঝিনাইগাতী ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় ঝিনাইগাতীতে থমথমে পরিস্থিতি

সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহতের ঘটনায় পুরো উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে ঝিনাইগাতী এলাকাজুড়ে সুনসান নীরবতা দেখা গেছে। রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি খুবই কম, বন্ধ রয়েছে উপজেলা সদর বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট।

নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। তার মরদেহ এখনো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেখানে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে হয়েছে, মরদেহ শেরপুরের শ্রীবরদীতে নেওয়া হবে। এরপর বিকেল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, বিকেল ৫টায় শ্রীবরদী কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা এবং রাত সাড়ে ৮টায় গোপালখিলা স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বুধবারের ঘটনায় ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

জেলা জামায়াতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিহত রেজাউল করিমের জানাজায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন। এ ছাড়া, জানাজা থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও জামায়াতের মনোনীত এমপি প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।

এর আগে, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে ঝিনাইগাতী ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।