০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মাগুরার জননেতা মনোয়ার হোসেন খান: শিক্ষা, রাজনীতি ও মানবসেবায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • 241

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা মাগুরা। এই জনপদে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে যে নামটি ঘুরেফিরে আসছে, তিনি হলেন মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান। দলের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও জনপ্রিয়তা বিবেচনায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পরাজিত হওয়ার ভয়ে নির্বাচনের সময় তোকে কারাবন্দী করে রাখে।

রাজনীতির ময়দানে এক নিরলস কর্মী থেকে শুরু করে আজকের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতায় পরিণত হওয়া এই ব্যক্তিত্ব জন্মসূত্রে মাগুরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবালপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

মনোয়ার হোসেন খানের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবনেই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন আদর্শবান কর্মী হিসেবে ছাত্রদল থেকেই তাঁর পথচলা শুরু। মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করে তিনি খুলনার ঐতিহ্যবাহী বিএল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে। অত্যন্ত মেধাবী এই শিক্ষার্থী অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বলিষ্ঠ ছাত্রনেতা।

১৯৮৬ সালে ছাত্রদলের (জালাল-বাবলু) কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি প্রথম সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে ছাত্ররাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

ছাত্ররাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ২০০৩ সালে, মাগুরা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে। এই সময়েই জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয় তাঁর। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, যদিও সে সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। তা সত্ত্বেও দলীয় ও সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ছিল তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবায়ও মনোয়ার হোসেন খান এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জেলার হাজারো শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর মাধ্যমে অনেকে আজ প্রতিষ্ঠিত এবং পরিবারে একমাত্র আয়ের উৎস। এ কারণে তাঁকে জেলার সাধারণ মানুষ “বেকার যুবকদের ভরসাস্থল” বলেই অভিহিত করেন।

এছাড়া, অসুস্থ, দুঃস্থ ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন বহুবার। সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে রয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং গ্রহণযোগ্যতা।

রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর পেশাগত জীবনও সমানভাবে উজ্জ্বল। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে কর্মজীবন শুরু করে একে একে দায়িত্ব পালন করেছেন ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে। পরবর্তীতে রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালে ডিরেক্টর ও টেকনো ড্রাগসের সিইও হিসেবেও সফলভাবে কাজ করেছেন।

মনোয়ার হোসেন খান শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন সমাজসেবক, দক্ষ প্রশাসক এবং শিক্ষিত যুবসমাজের প্রেরণার উৎস। মাগুরা জেলার প্রেক্ষাপটে তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনন্য প্রতীক—আশার, আস্থার ও অগ্রগতির।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মাগুরার জননেতা মনোয়ার হোসেন খান: শিক্ষা, রাজনীতি ও মানবসেবায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা মাগুরা। এই জনপদে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে যে নামটি ঘুরেফিরে আসছে, তিনি হলেন মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান। দলের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও জনপ্রিয়তা বিবেচনায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পরাজিত হওয়ার ভয়ে নির্বাচনের সময় তোকে কারাবন্দী করে রাখে।

রাজনীতির ময়দানে এক নিরলস কর্মী থেকে শুরু করে আজকের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতায় পরিণত হওয়া এই ব্যক্তিত্ব জন্মসূত্রে মাগুরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবালপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

মনোয়ার হোসেন খানের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রজীবনেই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন আদর্শবান কর্মী হিসেবে ছাত্রদল থেকেই তাঁর পথচলা শুরু। মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করে তিনি খুলনার ঐতিহ্যবাহী বিএল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে। অত্যন্ত মেধাবী এই শিক্ষার্থী অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বলিষ্ঠ ছাত্রনেতা।

১৯৮৬ সালে ছাত্রদলের (জালাল-বাবলু) কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি প্রথম সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে ছাত্ররাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

ছাত্ররাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ২০০৩ সালে, মাগুরা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে। এই সময়েই জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হয় তাঁর। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, যদিও সে সময় তিনি কারাবন্দী ছিলেন। তা সত্ত্বেও দলীয় ও সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ছিল তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবায়ও মনোয়ার হোসেন খান এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জেলার হাজারো শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর মাধ্যমে অনেকে আজ প্রতিষ্ঠিত এবং পরিবারে একমাত্র আয়ের উৎস। এ কারণে তাঁকে জেলার সাধারণ মানুষ “বেকার যুবকদের ভরসাস্থল” বলেই অভিহিত করেন।

এছাড়া, অসুস্থ, দুঃস্থ ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন বহুবার। সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে রয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং গ্রহণযোগ্যতা।

রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর পেশাগত জীবনও সমানভাবে উজ্জ্বল। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে কর্মজীবন শুরু করে একে একে দায়িত্ব পালন করেছেন ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে। পরবর্তীতে রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালে ডিরেক্টর ও টেকনো ড্রাগসের সিইও হিসেবেও সফলভাবে কাজ করেছেন।

মনোয়ার হোসেন খান শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন সমাজসেবক, দক্ষ প্রশাসক এবং শিক্ষিত যুবসমাজের প্রেরণার উৎস। মাগুরা জেলার প্রেক্ষাপটে তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনন্য প্রতীক—আশার, আস্থার ও অগ্রগতির।