০৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কার্তিকের বৃষ্টিতে বাড়ছে ঠান্ডার আভাস, শীত হতে পারে দীর্ঘ ও তীব্র

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • 168

কার্তিক মাসের মাঝামাঝি এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি পড়ছে। এই বৃষ্টি চলতে পারে শনিবার পর্যন্ত, এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়ে দেশে শীতের আমেজ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ ভারতের অন্ধ্র উপকূলে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের আকাশে মেঘ জমেছে। বৃহস্পতিবার খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, নরসিংদী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জে হালকা বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃষ্টির প্রভাবে দেশের কয়েকটি নদীর পানি সামান্য বাড়তে পারে, তবে বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই। আগামী তিন দিনে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং ভারতের উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও অন্যান্য নদীর পানির স্তর কিছুটা বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন : ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, কার্তিকের এই বৃষ্টি কৃষির জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এখন আমন ধান পাকার মৌসুম। অনেক কৃষক কাটা শুরু করেছেন, আবার রবিশস্যের জমি প্রস্তুতির কাজও চলছে। বৃষ্টির কারণে এসব কাজে দু-এক দিনের বিলম্ব হতে পারে, তবে দ্রুত রোদ উঠলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এ বছর শীত স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ও তীব্র হতে পারে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, গত বছর নভেম্বরেই শীত নেমেছিল, কিন্তু ঢাকায় তা তেমন অনুভূত হয়নি। এবারও নভেম্বরজুড়ে রাজধানীতে ঠান্ডার প্রভাব কম থাকবে। ঢাকায় শীত শুরু হতে পারে নভেম্বরের শেষের দিকে বা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চলে ইতোমধ্যে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারীতে শীত বাড়বে এবং ধীরে ধীরে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

ঢাকায় শীত দেরিতে নামার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়া, ঘনবসতি ও যানবাহনের তাপ। তার ভাষায়, “যেখানে ঢাকায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ থাকার কথা, সেখানে এখন তিন কোটিরও বেশি বাস করছে। ফলে ঢাকায় তাপমাত্রা আশপাশের জেলাগুলোর তুলনায় গড়ে দুই থেকে তিন ডিগ্রি বেশি থাকে।”

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

কার্তিকের বৃষ্টিতে বাড়ছে ঠান্ডার আভাস, শীত হতে পারে দীর্ঘ ও তীব্র

সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

কার্তিক মাসের মাঝামাঝি এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা বৃষ্টি পড়ছে। এই বৃষ্টি চলতে পারে শনিবার পর্যন্ত, এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়ে দেশে শীতের আমেজ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ ভারতের অন্ধ্র উপকূলে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের আকাশে মেঘ জমেছে। বৃহস্পতিবার খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, নরসিংদী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জে হালকা বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃষ্টির প্রভাবে দেশের কয়েকটি নদীর পানি সামান্য বাড়তে পারে, তবে বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই। আগামী তিন দিনে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং ভারতের উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও অন্যান্য নদীর পানির স্তর কিছুটা বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন : ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, কার্তিকের এই বৃষ্টি কৃষির জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এখন আমন ধান পাকার মৌসুম। অনেক কৃষক কাটা শুরু করেছেন, আবার রবিশস্যের জমি প্রস্তুতির কাজও চলছে। বৃষ্টির কারণে এসব কাজে দু-এক দিনের বিলম্ব হতে পারে, তবে দ্রুত রোদ উঠলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এ বছর শীত স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ও তীব্র হতে পারে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, গত বছর নভেম্বরেই শীত নেমেছিল, কিন্তু ঢাকায় তা তেমন অনুভূত হয়নি। এবারও নভেম্বরজুড়ে রাজধানীতে ঠান্ডার প্রভাব কম থাকবে। ঢাকায় শীত শুরু হতে পারে নভেম্বরের শেষের দিকে বা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চলে ইতোমধ্যে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারীতে শীত বাড়বে এবং ধীরে ধীরে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

ঢাকায় শীত দেরিতে নামার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়া, ঘনবসতি ও যানবাহনের তাপ। তার ভাষায়, “যেখানে ঢাকায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ থাকার কথা, সেখানে এখন তিন কোটিরও বেশি বাস করছে। ফলে ঢাকায় তাপমাত্রা আশপাশের জেলাগুলোর তুলনায় গড়ে দুই থেকে তিন ডিগ্রি বেশি থাকে।”