অনেকে মনে করেন ভাত শরীরের ওজন বাড়ায়। এটি একটি ভুল ধারণা। মনে রাখতে হবে, ভাত কীভাবে রান্না হচ্ছে এবং কীসের সঙ্গে ও কতটুকু খাওয়া হচ্ছে―তার ওপর নির্ভর করে ওজন বাড়ার বিষয়টি।
ভাতে রয়েছে বেশি কার্বোহাইড্রেট ও উচ্চ পরিমাণে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স, যা ওজন ও রক্তে সুগার বাড়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। ভাতে কার্বোহাইড্রেট ছাড়াও রয়েছে আরও পুষ্টিকর উপাদান, যেমন ভিটামিন বি, ফলিক অ্যাসিড ও ম্যাগনেশিয়াম। এসব পুষ্টি-উপাদানগুলো আমাদের শরীরের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে ভাতকে খাদ্যতালিকা থেকে কেন বাদ দেবেন।
পুষ্টিবিদরা বলছে, ভাত খেয়েও যে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
ভাত রান্নার পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত:
অনেকেই ভাত রান্নার আগে চাল ধুয়ে নেন। তারপর সঙ্গে সঙ্গেই চুলায় রান্না করতে দেন। এর পরিবর্তে চালকে আধঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি ফেলে দিয়ে নতুন পানি দিয়ে ভাত রান্না করলে কিছু পরিমাণ স্টার্চ বেরিয়ে যায়। আবার অনেকেই প্রেশার কুকারে ভাত রান্না করেন, যাতে মাড় ফেলে দেয়ার দরকার পড়ে না। এটি মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়।
ওজন কমাতে বরং মাড় ফেলে দিলে অনেকখানি স্টার্চ বেরিয়ে যায়। ফলে কার্বোহাইড্রেট কমে যায়।
খাওয়ার নিয়ম:
শুধু ভাতের সঙ্গে শাকসবজি বা লবণ-তেল কিংবা মাছ, মাংস খেলে শরীরে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। এর পরিবর্তে ভাতের সঙ্গে ডাল, শাকসবজি, সালাদ, মাছ বা মাংস একসঙ্গে খেলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বাড়বে না। এছাড়া ভাতের সঙ্গে সবকিছু মিশিয়ে খেলে খাবারের ফাইবারগুলো মিশে যায় এবং খাবারের সব পুষ্টি উপাদান যেমন প্রোটিন, ফাইবার ও ভিটামিন, মিনারেলসগুলো পাওয়া যায়। যা আমাদের শরীরে ধীরে ধীরে শোষণ হয় এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বাড়বে না।
খাওয়ার সময়:
ভাত সবসময় দিনের তুলনায় রাতে কম খেতে হয়। কারণ, দিনের বেলা ভাত খাওয়ার পর শরীরে নড়াচড়া ও বাড়ির নানা কাজ, হাঁটাচলা ইত্যাদি করা হয়। ফলে শরীর থেকে ক্যালরি বার্ন হয়। আবার দুপুরে ভাত খাওয়ার পর ঘুমানো যাবে না। এতে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। রাতে কম করে খেতে হবে। কারণ, রাতে হাঁটাচলা ও কাজ করার সুযোগ দিনের তুলনায় কম থাকে। এ থেকে শরীরে ক্যালরি জমা থাকবে।
কী পরিমাণ খেতে হবে:
ওজন কমাতে চাইলে অথবা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনে ৩০ গ্রাম চালের ভাত রান্না করুন। পরিমাণ হবে এক কাপের সমান। এতে মোট ১৫০ থেকে ১৭০ কিলোক্যালরি থাকে।
ঢাকা ডেস্ক 















