ইন্টারনেট ব্যবহারের সহজলভ্যতা তরুণদের তথ্য ও বিনোদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। কিন্তু সেই একই সহজলভ্যতাই তৈরি করেছে নিষিদ্ধ ভিডিও সংস্কৃতি বা পর্নোগ্রাফি। যেখানে কৌতূহল, প্রলোভন আর অজানার টান একসঙ্গে কাজ করে।
অনেকে বন্ধুর পরামর্শে, কেউবা ট্রেন্ড ধরে রাখতে গিয়ে, অজান্তেই এমন কনটেন্টে জড়িয়ে পড়ছে যা তাদের ভবিষ্যৎকে কালো করে দিতে পারে।
ডোপামিন আসক্তি থেকে শুরু
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসক্তি বিশেষজ্ঞ ডা. আনা লেম্বকি বলেছেন, আমাদের স্মার্টফোন আমাদের ডোপামিন নেশায় আসক্ত করে তুলছে। প্রতিটি ‘সোয়াইপ,’ ‘লাইক’ বা ‘টুইট’ আমাদের মস্তিষ্কে আনন্দ সঞ্চারক রাসায়নিক ডোপামিন নিঃসরণ করে। তখন সামাজিক মাধ্যম, শর্ট ভিডিও অ্যাপ বা নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটের প্রলোভনও তরুণদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় লাগে। কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন সেই আগ্রহ আসক্তিতে পরিণত হয়।
এক সময় এসব ভিডিও দেখার পাশাপাশি কেউ কেউ এগুলো শেয়ার, সংরক্ষণ এমনকি নিজেরাই কনটেন্ট তৈরি করতেও শুরু করেন। যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
মনোবিজ্ঞানী এম. প্রিভারা বলেছেন, নিয়মিত প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট দেখার ফলে মস্তিষ্কের ডোপামিন প্রভাবিত হয়। এর ফলে স্বাভাবিক আনন্দ পাওয়ার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায় এবং ব্যক্তির মনোযোগ কমতে শুরু করে।
এছাড়াও এর ফলে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, পড়াশোনা বা কর্মজীবনে মনোযোগ নষ্ট হয়। অনেকে হতাশা, আত্মগোপন কিংবা সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভুগতে শুরু করে।
ডোপামিন আসক্তি থেকে পর্নোগ্রাফির ফাঁদে তরুণরা
সমাধান কী?
সমাধান হতে পারে শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে। স্কুল-কলেজে সাইবার সচেতনতা বিষয়ক ক্লাস সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও পিতা-মাতার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং অনলাইন নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারে। আর সবচেয়ে জরুরি, নিজেকে বারবার মনে করানো – ডিজিটাল জগতে প্রতিটি ক্লিকের পেছনে থাকে আমাদের দায়বদ্ধতা।
ঢাকা ডেস্ক 















