১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কাউন্দিয়াবাসীর দুঃখ তুরাগ নদ!

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • 228

ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূর দিয়ে বয়ে গেছে তুরাগ নদী। এ নদী পার হয়ে অপর পাশে পৌঁছালে সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন। এ নদীটি ইউনিয়নের ২২ টি গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ।

২২ টি গ্রামে দুই লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। ঐ জনপদের বেশিরভাগ বাসিন্দারের প্রতিদিনই কোনও না কোনও কাজে রাজধানীতে প্রবেশ করতে হয়। রাজধানীর সঙ্গে ব্যবসা বানিজ্য, শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রতিদিনের সম্পর্ক ওতপ্রতভাবে জড়িত।

তবে ইউনিয়নটিতে নেই কোনও ভালো স্কুল কলেজ। বিশ্ববিদ্যালয়েরতো প্রশ্নই উঠে না। নেই কোনও হাসপাতাল,  ফায়ার স্টেশন। রাজধানী থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের দূরত্ব হলেও জোটে না কোনও নাগরিক সুযোগ সুবিধা। অথচ রাজধানীর সঙ্গে এ এলাকার বাসিন্দাদের নিত্য দিনের সম্পর্ক।

তবে রাজধানীর সঙ্গে তাদের যাতায়াতের প্রধাণ এবং একমাত্র মাধ্যম খেয়া নৌকা।

কোনও হাসপাতাল না থাকায় গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের চিকিৎসা সেবা নিতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালই একমাত্র ভরসা। নৌকা ছাড়া পারাপারের সুযোগ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের । তবে রাত হলে এ ভোগান্তির মাত্রা আরও বেড়ে যয়ি।

ছোট ছোট নৌকা দিয়ে হতে হয় পারাপার । বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি হয় দ্বিগুন। এই নদী দিয়ে চলাচল করে বড় বড় জাহাজ। দুর্ঘটনার কারণ এই জাহাজগুলো।

বিগত পাঁচ বছরে অন্তত দুইশোটিরও বেশি নৌ দুর্ঘটনা ঘটছে যেখানে প্রাণহানি হয়েছে শতাধিক। তারপরেরও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না। কোনও অদৃশ্য কারণে একটি সেতু হয়ে হয়েও আর হয়ে উঠছে না এই তুরাগ নদীতে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে অনেকবার সংবাদ প্রকাশ করলেও কর্তৃপক্ষের নেই কোনও ভ্রূক্ষেপ। নেয়া হয়নি কোনও উদ্যোগ। তবে দুর্ঘটনা রোধে কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নদীর দুই পাড়ে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করেছে, সেটাও আবার সীমিত।

কারণ উদঘাটন করতে গিয়ে জানা যায়, একাধিকবার সমীক্ষা করে ব্রিজটির দরপত্র আহ্বান করা হলেও রহস্যজনক কারণে তা আর সফলতার মুখ দেখছে না।

তবে যখন যে সংসদ সদস্য আসে তার ইশতেহারের মধ্যে থাকে কাউন্দিয়া ব্রিজ, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বছরের পর বছর এলজিইডি, বিআইডব্লিউটিএ , মন্ত্রনালয়ের টেবিলে টেবিলে ব্রিজটির ফাইল ঘুরতে থাকে।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, কিছু প্রভাবশালী লোকের  কারনে কাজগুলো বারবার হবে হবে বলেও আটকে যাচ্ছে। এই প্রভাবশালীরা  না থাকলেই ব্রিজের কাজ করা সম্ভব হবে বলে জানান তারা।

তবে আর কতদিন, কতমাস কিংবা কত বছর অন্ধকারেই থাকতে হবে কাউন্দিয়াবাসীকে। এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা নেই তাদের।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

কাউন্দিয়াবাসীর দুঃখ তুরাগ নদ!

সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকার মিরপুর ১ নম্বর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূর দিয়ে বয়ে গেছে তুরাগ নদী। এ নদী পার হয়ে অপর পাশে পৌঁছালে সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন। এ নদীটি ইউনিয়নের ২২ টি গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ।

২২ টি গ্রামে দুই লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। ঐ জনপদের বেশিরভাগ বাসিন্দারের প্রতিদিনই কোনও না কোনও কাজে রাজধানীতে প্রবেশ করতে হয়। রাজধানীর সঙ্গে ব্যবসা বানিজ্য, শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রতিদিনের সম্পর্ক ওতপ্রতভাবে জড়িত।

তবে ইউনিয়নটিতে নেই কোনও ভালো স্কুল কলেজ। বিশ্ববিদ্যালয়েরতো প্রশ্নই উঠে না। নেই কোনও হাসপাতাল,  ফায়ার স্টেশন। রাজধানী থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের দূরত্ব হলেও জোটে না কোনও নাগরিক সুযোগ সুবিধা। অথচ রাজধানীর সঙ্গে এ এলাকার বাসিন্দাদের নিত্য দিনের সম্পর্ক।

তবে রাজধানীর সঙ্গে তাদের যাতায়াতের প্রধাণ এবং একমাত্র মাধ্যম খেয়া নৌকা।

কোনও হাসপাতাল না থাকায় গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের চিকিৎসা সেবা নিতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালই একমাত্র ভরসা। নৌকা ছাড়া পারাপারের সুযোগ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের । তবে রাত হলে এ ভোগান্তির মাত্রা আরও বেড়ে যয়ি।

ছোট ছোট নৌকা দিয়ে হতে হয় পারাপার । বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি হয় দ্বিগুন। এই নদী দিয়ে চলাচল করে বড় বড় জাহাজ। দুর্ঘটনার কারণ এই জাহাজগুলো।

বিগত পাঁচ বছরে অন্তত দুইশোটিরও বেশি নৌ দুর্ঘটনা ঘটছে যেখানে প্রাণহানি হয়েছে শতাধিক। তারপরেরও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না। কোনও অদৃশ্য কারণে একটি সেতু হয়ে হয়েও আর হয়ে উঠছে না এই তুরাগ নদীতে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে অনেকবার সংবাদ প্রকাশ করলেও কর্তৃপক্ষের নেই কোনও ভ্রূক্ষেপ। নেয়া হয়নি কোনও উদ্যোগ। তবে দুর্ঘটনা রোধে কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নদীর দুই পাড়ে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করেছে, সেটাও আবার সীমিত।

কারণ উদঘাটন করতে গিয়ে জানা যায়, একাধিকবার সমীক্ষা করে ব্রিজটির দরপত্র আহ্বান করা হলেও রহস্যজনক কারণে তা আর সফলতার মুখ দেখছে না।

তবে যখন যে সংসদ সদস্য আসে তার ইশতেহারের মধ্যে থাকে কাউন্দিয়া ব্রিজ, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বছরের পর বছর এলজিইডি, বিআইডব্লিউটিএ , মন্ত্রনালয়ের টেবিলে টেবিলে ব্রিজটির ফাইল ঘুরতে থাকে।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, কিছু প্রভাবশালী লোকের  কারনে কাজগুলো বারবার হবে হবে বলেও আটকে যাচ্ছে। এই প্রভাবশালীরা  না থাকলেই ব্রিজের কাজ করা সম্ভব হবে বলে জানান তারা।

তবে আর কতদিন, কতমাস কিংবা কত বছর অন্ধকারেই থাকতে হবে কাউন্দিয়াবাসীকে। এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা নেই তাদের।