চুলে রং করা এখন অনেকেরই অভ্যাস। গবেষণা বলছে,ঘন ঘন চুলে রং করলে সেটি কিডনি, লিভার ও ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ-এর গবেষকদের মতে, চুলে ঘন ঘন হেয়ার ডাই ব্যবহার করলে তার রাসায়নিক পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে এবং কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
হেয়ার ডাইয়ে থাকা রাসায়নিক পদার্থগুলো মাথার ত্বক দিয়ে শরীরে শোষিত হয়। এরপর এগুলো রক্তে মিশে শরীরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
আমাদের কিডনি রক্ত থেকে দূষিত পদার্থ ছেঁকে বের করে দেয়। কিন্তু ডাই-এর কিছু বিষাক্ত রাসায়নিক ছেঁকে ফেলতে কিডনি সক্ষম নয়। ফলে এই পদার্থগুলো রক্তে জমে থেকে শরীরে নানা জটিল সমস্যা তৈরি করে।
ডাইয়ে কী কী ক্ষতিকর উপাদান থাকে?
হেয়ার ডাইয়ে এমন অনেক রাসায়নিক থাকে যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক পদার্থ হলো প্যারা-ফিনাইলিন ডায়ামিন (PPD)—এটি গাঢ় রং তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। এই উপাদান রক্তে ঢুকে কিডনি, লিভার এবং ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
এছাড়া ডাইয়ে আরও থাকে—প্রপিলিন গ্লাইকল, অ্যামোনিয়া, অ্যামাইনো ফেনল, ভারী ধাতু যেমন সিসা (lead) ও পারদ (mercury)। এই উপাদানগুলো শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে প্রবেশ করলে বিষক্রিয়া হতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হতে পারে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, চুলে রং করতে চাইলে রাসায়নিকের বদলে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা নিরাপদ। যেমন—
হেনা বা মেহেদি : অরগ্যানিক হেনা পাউডার লিকার চা দিয়ে মিশিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে দিন। তারপর মাথায় লাগিয়ে ঘণ্টাখানেক পর ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলে প্রাকৃতিক রং আসবে।
আমলকি ও কফি মিশ্রণ : তিন চামচ আমলকী পাউডার, তিন চামচ হেনা ও এক চামচ কফি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। চুলে লাগিয়ে দুই ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল পাকা ধীরে আসে।
কারিপাতা ও নারকেল তেল : নারকেল তেলে কারিপাতা ফুটিয়ে নিন, ছেঁকে নিয়ে মাথায় মালিশ করুন। এটি চুল পাকা রোধে দারুণ কার্যকর।
ঢাকা ডেস্ক 















