বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম একদিনেই ৩ শতাংশের বেশি কমেছে, আর মঙ্গলবার দিনের শুরুতে নিউ ইয়র্কের বাজারে আউন্সপ্রতি দাম কমেছে ০.৩৩ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৯০ ডলারে।
গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে স্বর্ণের দাম কমেছে ৮ শতাংশেরও বেশি—যা ২০১৩ সালের পর এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ দরপতন। বছরের শুরু থেকে সোনার দামে যেভাবে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল, তার মোড় ঘুরে গেছে বছরের শেষভাগে এসে।
এ বছরের শুরুতে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা ও ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার কমানোর ইঙ্গিতে স্বর্ণকে ‘নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয়স্থল’ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে।
আরও পড়ুন : যুবলীগ নেতা সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ডলার সূচক ১০৬-এর ওপরে ওঠায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য সোনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে বাজারে স্বর্ণের চাহিদা কমছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসা এবং শেয়ারবাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিচ্ছেন।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে সোনার দামের আদর্শ মানদণ্ড হলো প্রতি আউন্সে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০ ডলার। দাম যদি এই সীমার নিচে নামে, তাহলে তা আরও বড় পতনের ইঙ্গিত দিতে পারে, যা ৩ হাজার ৭০০–৩ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিকভাবে সোনা কেনার প্রবণতা বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় নাগাদ স্বর্ণের দাম আবারও ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা পৌঁছাতে পারে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৪৪০ ডলারে।
বিশ্লেষকদের সারসংক্ষেপে এখন একটাই মত—টানা কয়েক মাসের উত্থানের পর সোনার বাজার সাময়িকভাবে স্থবির, তবে নতুন কোনো ভূরাজনৈতিক সংকট বা মূল্যস্ফীতি দেখা দিলে বিনিয়োগকারীরা আবারও সোনার দিকে ঝুঁকতে পারেন।
ঢাকা ডেস্ক 









