হলুদ শুধু রান্নার জন্যই নয়, এটি স্বাস্থ্যরক্ষায়ও অসাধারণ কার্যকর। বিশেষ করে পুরুষদের জন্য হলুদ এবং এর সক্রিয় উপাদান কুরকুমিন নানা উপায়ে শরীরের সুস্থতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এটি একটি প্রাচীন ঔষধি মসলা, যা হাজার বছর ধরে ভারতীয় এবং এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে।
আজকে আমরা জানব কীভাবে হলুদ পুরুষদের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি এবং এটি কীভাবে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করা যেতে পারে।
যৌন স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে
হলুদ পুরুষ প্রজনন ক্ষমতা এবং ইরেকশন উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। ১০ সপ্তাহ ধরে কুরকুমিন নেওয়ায় শুক্রাণুর সংখ্যা এবং গতিশীলতা বাড়তে পারে।
প্রস্টেট স্বাস্থ্য রক্ষা করে
কুরকুমিন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে এবং পুরুষদের প্রস্টেট রক্ষা করতে সাহায্য করে। প্রস্টেট মূত্রথলির নিচে থাকে এবং বীজস্রাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রস্টেট (BPH) চিকিৎসার সঙ্গে কুরকুমিন যোগ করলে – জীবনমান উন্নত হয়, উপসর্গ কমে, প্রস্রাব সহজ হয় ও ইউরিনারি ট্র্যাক্ট সংক্রমণ কমে।
হৃদরোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে
হলুদ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। ছোট কিছু গবেষণায় দেখা গেছে কুরকুমিন শরীরের কিছু ঝুঁকির ফ্যাক্টর, যেমন- বডি মাস ইনডেক্স (BMI), কোলেস্টেরল লেভেল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। তবে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে।
প্রদাহ কমায় এবং কোষের স্বাস্থ্য রক্ষা করে
হলুদের অনেক উপকারিতা এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কারণে। দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং ক্যান্সারের মতো রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষণায় দেখা গেছে, কুরকুমিন অ্যাজমা, আর্থ্রাইটিস এবং ক্রোনস ডিজিজের মতো প্রদাহজনিত রোগের কিছু উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে।
হলুদ এবং কুরকুমিন শরীরে প্রদাহের কিছু চিহ্ন যেমন:
– সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP)
– ইন্টারলিউকিন-৬ (IL-6)
– টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর α (TNF-α) কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও কুরকুমিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লেভেল বাড়িয়ে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ঝুঁকি কমায়।
মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে কুরকুমিনের অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট প্রভাব আছে। এটি পুরুষদের মধ্যে মেজাজ উন্নত করার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হতে পারে। ১০৮ জন পুরুষের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কুরকুমিন এবং অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট একসাথে নিলে বিষণ্নতা কমাতে আরও সাহায্য করে।
ত্বকের স্বাস্থ্য ও ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে
পুরুষদের ত্বকের জন্য বিশেষ গবেষণা নেই। তবে ত্বকে কুরকুমিন ব্যবহার করলে সোরিয়াসিস, একজিমা, সংক্রমণ এবং ক্ষতের নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কুরকুমিন ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে পারে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। সীমিত গবেষণায় দেখা গেছে, ফুটবল খেলোয়াড়দের মধ্যে ভিটামিন C ও D এর সঙ্গে কুরকুমিন নিলে সর্দি ও পাচনতন্ত্রের সমস্যা কমেছে।
সূত্র: Very Well Health
ঢাকা ডেস্ক 















